১২/০২/২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
16 C
Dhaka
১২/০২/২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

গাজার পর লেবাননেও ফের হত্যাযজ্ঞ শুরু ইসরায়েলের 

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেস্তে দিয়ে ইসরায়েল একাধিক হামলা চালাচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে এই হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে গাজার বেসামরিক জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। হামাসকে শায়েস্তা করার অজুহাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সম্প্রতি গাজায় স্থল ও আকাশপথে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনে অন্তত ৪৯,৭৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,১৩,২১৩ জন আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, গত শুক্রবার (২২ মার্চ) সকাল থেকে গাজায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর হামলায় আরও ৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন শিশু। এই হামলার পাশাপাশি, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো লেবাননে হামলা চালানোর পর অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি, লেবানন থেকে ইসরায়েলের সীমান্তে রকেট হামলা চালানো হয়েছে, যা ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রতিহত করেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবানন থেকে নিক্ষেপ করা তিনটি রকেট প্রতিহত করেছে এবং আরও দুইটি রকেট লেবাননের ভেতরে পড়েছে। এছাড়া, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সেই ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।

গাজার চলমান এই সংঘাতের মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারসহ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করলেও,

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেস্তে দিয়েছেন। ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, দ্বিতীয় ধাপে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে কাতার ও মিসরের সঙ্গে আলোচনার পর, ইসরায়েল আবারও হামলা শুরু করেছে।

যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ এবং অব্যাহত হামলার ফলে পরিস্থিতি আরও বিপদজনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাতে থাকায় হিজবুল্লাহ এবং হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের ওপর পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘাতের মূলে রয়েছে দীর্ঘকালীন ফিলিস্তিনি সংকট এবং ইসরায়েলের দখলদারিত্ব। উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হওয়ার পর এই হামলার প্রবণতা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, যা শুধুমাত্র ফিলিস্তিন নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এখনও ইসরায়েলের আগ্রাসনকে সমর্থন না জানালেও, কিছু দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে। তেল আবিব এবং অন্যান্য শহরে বড় বড় বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রতিবাদ হয়েছে।

অপরদিকে, গাজায় হামলা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি, ইয়েমেনের হোদেইদা বিমানবন্দর ও লোহিত সাগরের আল সালিফ বন্দরের ওপর হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে, ইসরায়েলের সরকার এবং হামাস উভয় পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সংকট এবং আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের শান্তি এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পড়ুন: গাজার একমাত্র ক্যানসার হাসপাতাল ধ্বংস করে দিলো ইসরায়েল

দেখুন: গাঁজা ছিল বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিযোগ্য সম্পদ | 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন