গাজার অবরুদ্ধ উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের মাঝে, ফিলিস্তিন থেকে প্রায় ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। গত রোববার এক প্রতিবেদনে আলজাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী জানায় যে, এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে পাঁচটি সফলভাবে প্রতিরোধ করা হয়েছে, কিন্তু কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আশকেলন এবং গ্যান ইয়াভনে পড়েছে, যার ফলে কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনজন সামান্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে, ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্তার এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে, গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে। গত দেড় বছর ধরে অবরুদ্ধ উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৫০ হাজার ৬০৯ জন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৩ জন, যার মধ্যে ৫৬ শতাংশ নারী ও শিশু। এর পাশাপাশি, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা চালায় হামাসের যোদ্ধারা, যাদের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হয়ে যায়। এই হামলার পর থেকে ইসরায়েল অভিযান শুরু করে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় জনগণের অবস্থা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। গত ১৫ মাসে টানা অভিযানে ইসরায়েল বাহিনীর আক্রমণ এবং অপরাধের ফলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। গত জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও, ফের মার্চ মাসে গাজায় দ্বিতীয় দফার সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এই অভিযানে ১৫ দিনে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে এই গণহত্যার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের ন্যাশনাল অ্যান্ড ইসলামিক ফোর্সেস নামের একটি গোষ্ঠী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সোমবার তারা বিশ্বজুড়ে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ গণহত্যা এবং অপরাধ সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা যায়। গোষ্ঠীটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিশ্বজুড়ে ধর্মঘট সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। একসাথে প্রতিরোধের কণ্ঠস্বর জোরাল করতে হবে এবং ইসরায়েলি বাহিনীর অপরাধকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।”

এদিকে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এবং যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার আহ্বান জানালেও, ইসরায়েলি বাহিনী ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। ফিলিস্তিনের জনগণের এই সংগ্রাম এবং বিশ্বের প্রতিবাদ এখনও থামানো যায়নি, এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
পড়ুন : ইসরায়েলের অবিরাম বোমাবর্ষণে আরও অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনির প্রাণহানি
দেখুন : বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিযোগ্য সম্পদ |
ইম/


