ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অবিরাম হামলা এবং সর্বাত্মক অবরোধের ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং অন্যান্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এই সংকটের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, ইসরায়েল তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে রাজি নয়। ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ৭ এপ্রিল এক বিবৃতিতে বলেন, গাজায় “গমের একটি দানাও প্রবেশ করবে না”। এর ফলে খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ইসরায়েল ২ মার্চ থেকেসীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে গাজায় মানবিক সহায়তা, ত্রাণ সামগ্রী এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গাজার স্থানীয় সরকার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই অবরোধের ফলে এক অভূতপূর্ব মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বাসিন্দারা এখন খাদ্য এবং মৌলিক পরিষেবার অভাবে অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে দিনযাপন করছেন।
এর পাশাপাশি, উপর ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন হামলায় প্রায় ১,৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫০ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার বেশিরভাগই নারী এবং শিশু। এই হামলা ইসরায়েলের ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে।

ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের মতে, তিনি গাজা থেকে ইসরায়েলি বন্দিদের ফিরিয়ে আনার চেয়ে হামাসকে পরাজিত করাকেই অগ্রাধিকার দেন। এই পরিস্থিতিতে, গাজার ওপর আক্রমণ এবং অবরোধ আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আক্রমণ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের জন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি ইসরায়েলি কার্যক্রমের নিন্দা জানাচ্ছে এবং মানবিক সংকট সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। বিশেষত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা এই বর্বর আক্রমণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
এদিকে, গাজার এই অবরোধ এবং হামলার জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষত, ২০২৪ সালের হজ মৌসুমের আগে এই সংকট এবং মানবিক দুর্ভোগ বিশ্বজুড়ে আলোচিত হচ্ছে, কিন্তু ইসরায়েল তা নিয়ে কোনো ধরনের অবস্থান পরিবর্তন করছে না।
এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে, সাধারণ মানুষ বেঁচে থাকার জন্য তীব্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, তবে আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং ত্রাণের অভাব তাদের পক্ষে এই সংকট মোকাবিলা করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেন তারা জনগণের প্রতি সহানুভূতির সঙ্গে মানবিক সাহায্য পাঠিয়ে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে।
পড়ুন: লাগাতার ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৬০ ফিলিস্তিনি
দেখুন: গাঁজা ছিল বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিযোগ্য সম্পদ |
ইম/


