32.2 C
Dhaka
০৫/০৩/২০২৬, ১৩:০৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় একদিনে নিহত ৮৪

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) টানা বিমান হামলায় গাজা উপত্যকায় একদিনে অন্তত ৮৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা অভিযানে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬৮ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে প্রকৃত নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ এখনও অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন এবং তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর থেকেই গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।

ওই হামলায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস যোদ্ধারা। এর প্রতিক্রিয়ায় আইডিএফ গাজায় পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করে, যা ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবারের এই সর্বশেষ হামলার পর, গত দেড় বছরে মোট ৫১ হাজার ৪০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৪১৬ জন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, নিহত ও আহতদের মধ্যে ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু।

চলমান সংকটের মধ্যেও গত ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর চাপের মুখে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই, জিম্মি মুক্তি ও বিনিময়ে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ছাড়া নিয়ে মতানৈক্যের কারণে, ১৮ মার্চ থেকে আবার সামরিক অভিযান শুরু করে আইডিএফ।

দ্বিতীয় দফার এই অভিযানে, মাত্র ৩৮ দিনের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ২ হাজার ৬০ জন এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৭৫ জন ফিলিস্তিনি।

হামাসের হাতে থাকা ২৫১ জন জিম্মির মধ্যে এখনও অন্তত ৩৫ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইডিএফ জানিয়েছে, সামরিক অভিযানের মাধ্যমেই তাদের উদ্ধার করা হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “হামাসকে সম্পূর্ণভাবে দুর্বল ও অকার্যকর করা এবং সকল জিম্মিকে মুক্ত করাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনের আগ পর্যন্ত অভিযান চলবে।”

জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একাধিকবার সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলকে। এমনকি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবুও, হামলার মাত্রা দিনদিন বেড়েই চলেছে। যুদ্ধবিরতি, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা সত্ত্বেও উপত্যকা রক্তাক্ত, বিপর্যস্ত ও মানবিক সংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছে।

পড়ুন: নিহত আরও ৬০ ফিলিস্তিনি, মারা গেলেন একই পরিবারের ১২ জন

দেখুন: আর্জেন্টিনাসহ যেসব দেশে গাঁজা সেবন বৈধ | 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন