20.7 C
Dhaka
০৫/০৩/২০২৬, ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

আগামী সপ্তাহে গাজায় যুদ্ধবিরতির আভাস দিয়েছেন ট্রাম্প

এবার ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সাথে যুদ্ধবিরতির আভাস এসেছে। গাজায় চলমান সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেই শান্তির এক ক্ষীণ সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন

আজ শনিবার (২৮ জুন) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন তথ্য।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা ঘিরে রয়েছে নানা জটিলতা, অবিশ্বাস আর দোষারোপের রাজনীতি।

গাজা ভূখণ্ডজুড়ে এখন শুধু ধ্বংস আর মৃত্যুর চিত্র। ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় একের পর এক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারাচ্ছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক মাসেই, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের আশপাশে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচশো ফিলিস্তিনি।

এই প্রেক্ষাপটেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানালেন আশার কথা। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির সাথে আমি কথা বলেছি। আমরা বিশ্বাস করি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই গাজায় যুদ্ধবিরতি হতে পারে।” তবে এই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কারা, সে বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করেননি তিনি।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে হামাস বলছে, গাজায় ইসরায়েলি অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং দখলকৃত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের কাছ থেকে যুদ্ধবিরতি না ভাঙার নিশ্চয়তাও চাইছে তারা।

এদিকে গাজা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ আরও ভয়াবহ। তারা বলছে, ইসরায়েলি সেনা কমান্ডাররা ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রাণ নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গাজা কর্তৃপক্ষের বরাতে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনিরা। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।

আবার মানবিক দিক থেকেও গাজা বিপর্যস্ত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ খাদ্য, পানি ও ওষুধ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। ফলে গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন ইসরায়েলের কৌশল বিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমার। তার সফরে গাজা পরিস্থিতি, ইরান ইস্যু ও নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউস সফর নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কার্যালয় জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো অগ্রগতির তথ্য তাদের কাছে নেই।

সব মিলিয়ে এখন প্রশ্ন, এমন এক জটিল, রক্তাক্ত পরিস্থিতিতে কী সত্যিই আসছে যুদ্ধবিরতি? নাকি এটি কেবল কূটনৈতিক কৌশল মাত্র? বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লেও যুদ্ধ থামার জন্য দরকার বাস্তব পদক্ষেপ, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থা।

গাজার ধ্বংসস্তূপের ভেতরে দাঁড়িয়ে এখন ফিলিস্তিনিরা কেবল শান্তি চাইছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বাভাস হতে পারে তাদের আশার আলো। কিন্তু এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়িত হবে কিনা, তা এখনো সময়ই বলবে।

এনএ/

দেখুন: বিশ্ব মানবতার স্যালুট নিয়ে গাজা অভিমুখে ম্যাডলিন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন