গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরামা গ্রামে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ এক ব্যক্তিকে আটক করার পর স্থানীয় জনতার রোষানলে পড়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-১) একটি দল। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ হস্তক্ষেপে র্যাব সদস্যদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে র্যাব-১ এর গাজীপুর ক্যাম্পের সদস্যরা বরামা চৌরাস্তা মোড়ে মোশারফ হোসেন নামের এক ব্যক্তির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরির কারখানায় অভিযান চালান। অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করে তাকে আটক করেন তারা। কিন্তু স্থানীয়রা এই ঘটনাকে “নাটক” বলে দাবি করে এবং র্যাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানোর অভিযোগ তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোশারফের আত্মীয় ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে চারদিকের রাস্তা অবরোধ করে র্যাব সদস্যদের অবরুদ্ধ করে ফেলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে মোশারফ হোসেনকে র্যাবের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় জনতা। কিছুক্ষণের মধ্যেই সহস্রাধিক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, র্যাবের অভিযানের সময় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এলেও, তারাও কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। অবশেষে রাত সাড়ে সাতটার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং র্যাব সদস্যরা মুক্ত হন।
এ বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার চৌধুরী ড. মো. যাবের সাদেক বলেন, “র্যাবের সঙ্গে স্থানীয়দের কিছু সমস্যা হয়েছিল। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।”
পড়ুন :গাজীপুরে বাস চাপায় নওগাঁ ডিবির ওসি নিহত
বিজ্ঞাপন


