১০/০২/২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
20 C
Dhaka
১০/০২/২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

গাজীপুরে কোটি টাকার রহস্যজনক মোটরসাইকেল

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের বেজমেন্টের গ্যারেজে প্রায় এক বছর ধরে পড়ে রয়েছে ১০০টি নতুন মোটরসাইকেল। ব্যবহার না হওয়ায় এগুলোতে জমেছে ধুলোর স্তর। তবে, কেন এবং কী উদ্দেশ্যে এই কোটি টাকার সম্পদ কেনা হয়েছিল, তা এখনও অজানা। এদিকে গুদামে একশ মোটরসাইকেল থাকার কথা থাকলেও এখন গুদামে আছে ৯০টি। ১০টির কোনো খোঁজও পাওয়া যাচ্ছে না, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

বিজ্ঞাপন

২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর ইজিপি টেন্ডারের মাধ্যমে টিভিএস অটো বাংলাদেশ থেকে ১৬০ সিসির ১০০টি মোটরসাইকেল কেনা হয়। টেন্ডার শর্ত অনুযায়ী, সেগুলো নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির জন্য ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেগুলোর জায়গা হয় সিটি কর্পোরেশনের গুদামে, যেখানে প্রায় এক বছর ধরে অযত্নে পড়ে থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীলরা জানায়, এসব মোটরসাইকেল কেনা হয়েছিল জায়েদা খাতুনের মেয়র নির্বাচনের পর, যখন তার ছেলে ও সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম কার্যত নগরীর সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। তার নির্দেশেই এই মোটরসাইকেলগুলো কেনা হয়, তবে কেন তা ব্যবহৃত হয়নি, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সিটি কর্পোরেশনের অর্থে কেনা হলেও মোটরসাইকেলগুলো ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

সিটি কর্পোরেশনের যান্ত্রিক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক জানান,“মোটরসাইকেল গুলো দীর্ঘদিন গুদামে পড়ে থাকায় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এখন আমরা এগুলো আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি।” তবে তিনি স্বীকার করেন যে, কাগজপত্র অনুযায়ী ১০০টি মোটরসাইকেল থাকলেও বর্তমানে ১০টির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

সিটি কর্পোরেশনের সচিব এবিএম এহছানুল হক, যিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন, বলেন, “এই বিষয়ে আমি এখনও অবগত নই।”

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের এই ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে— কোটি টাকার এই মোটরসাইকেল কেনা হলো কার জন্য, আর কেনই বা সেগুলো অযত্নে পড়ে রইল?

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন