১৪/০১/২০২৬, ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

গাজীপুর ৩ আসনে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ

গাজীপুর‑৩ আসনের সংসদ সদস্য পদে বিএনপি মনোনীত ডা. এস এম রফিকুল ইসলামকে কেন্দ্র করে নতুন এক রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে কর্মরত থাকার সময়ই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। আর এই তথ্য নির্বাচন কমিশন বা জনসাধারণের কাছে প্রকাশ না রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই প্রতিবেদকের কাছে আসা এক সরকারি চিঠিতে দেখা যায় ডা. রফিকুল ইসলাম ২০২৫ সালের ১৭ জুন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেছেন, যা ভূতাপেক্ষভাবে ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর ছিল। চিঠিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অফিসিয়ালভাবে অবগত করার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

আইনি বিশ্লেষকরা জানান, বাংলাদেশের Representation of the People Order, 1972 (RPO)‑এর বিধান অনুযায়ী, সরকারি বা রাষ্ট্র‑পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের ‘office of profit’ পদে থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারে না, এর আগে তাকে অবশ্যই ওই পদ থেকে ইস্তফা/পদত্যাগ করে তার নিয়োগ ও অবসর কার্যকর ঘোষণা করতে হয়। এই শর্ত অনুসারে, সরকারি কর্মচারী বা পদাধিকারীকে নির্বাচনাধীন পদে মনোনয়ন গ্রহণ করার আগে যোগ্যতার নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন।

আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী বা পদে থাকা ব্যক্তির জন্য সেখানে থেকে সরলেই যথেষ্ট নয়, পদত্যাগের পর ৩ বছর সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরই সংসদীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া সম্ভব -এই শর্তকে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত ও নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন, বিশেষ করে সরকারি কর্মচারী ও সামরিক কর্মীসহ যারা ‘office of profit’‑এ ছিলেন তাদের ক্ষেত্রে প্রাক‑শর্ত হিসেবে।

এই আইনি বিধানকে সামনে রেখে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ডা. রফিকুল ইসলামের নাম সংযুক্তি ও মনোনয়নপত্র প্রচারের সময় যদি তিনি পদত্যাগের তারিখ প্রকাশ না করেন বা পদত্যাগ কার্যকর না হয়, তাহলে তার মনোনয়নকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা যেতে পারে।

একজন আইনি বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘RPO‑এর Office of Profit আইন স্পষ্টভাবে বলে যে সরকারি পদে থাকা অবস্থায় নির্বাচন কমিটি ও জনগণকে তথ্য জানা জরুরি। পদত্যাগে তিন বছরের শর্ত যদি প্রযোজ্য হয়, তা না মেনে প্রার্থীতা দিলে তা অযোগ্যতা দাবি ও মনোনয়ন বাতিলের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে পারে।’

এ বিষয়ে বিএনপি বা সংশ্লিষ্টরা কোনো বক্তব্য প্রদান করেন নি, তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মনোনয়ন, পদত্যাগ ও আইনি শর্ত সম্পর্কে স্বচ্ছতা না থাকলে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রশ্ন তুলতে পারে।
এ ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র প্রার্থী ব্যক্তির জন্য নয়, জাতীয় নির্বাচন সামগ্রিকভাবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আইনি যোগ্যতা ও নিয়মকানুন অনুসরণ নিশ্চিতকরণের ওপর দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভিত্তি নির্ভরশীল।

এই বিষয়ে জানতে ডাক্তার রফিকুল ইসলাম এর মোবাইলে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : দুই ঘন্টায় গাজীপুরে ঝুট গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন