গাজীপুর-৬ বিলুপ্তির পর গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন
পুনঃর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে টঙ্গীস্থ আহসান উল্লাহ সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশন ক্যাম্পাসে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, আমাদের এই বক্তব্য কোনো ব্যক্তি, কোনো সহযোদ্ধা বা কোনো মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নয়। বরং এটি গাজীপুরবাসীর ভোটাধিকার, দলীয় ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনী সক্ষমতা ও বিজয়ের সম্ভাবনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি যুক্তিসংগত ও সময়োপযোগী দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গাজীপুর-৬ আসন বিলুপ্তির মাধ্যমে গাজীপুর-২ আসনের বাস্তবতা আমূল পরিবর্তিত হয়েছে।
আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নবগঠিত গাজীপুর-৬ আসন বাতিল হয়ে পূর্বাবস্থায় গাজীপুর-২ আসনে ফিরে এসেছে। এর ফলে গাজীপুর-২ আসনের রাজনৈতিক, ভৌগোলিক ও নির্বাচনী বাস্তবতা মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমান কাঠামোয় গাজীপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ লাখ, যা এটিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ, জটিল ও চ্যালেঞ্জিং সংসদীয় আসনে পরিণত করেছে।
গাজীপুর-২ আসনে যাকে বর্তমানে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বাস্তবতায়। সে সময় গাজীপুর-৬ আসন বহাল ছিল; টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল ছিল আলাদা সংসদীয় আসনের আওতায়; ভোটার চাপ ও ভৌগোলিক ভারসাম্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজ সেই বাস্তবতা আর নেই।
অথচ বর্তমান পুনর্গঠিত গাজীপুর-২ আসনে মনোনীত প্রার্থীর বাড়ি কাউলতিয়া এলাকায়, যা এই বিশাল নির্বাচনী এলাকার সর্বউত্তর প্রান্তে অবস্থিত এবং যেখানে ভোটার সংখ্যা মাত্র ৭৩ হাজার ৭৩৮ জন।
গাজীপুর-২ আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী এম মনজুরুল করিম রনির প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা তাঁর ব্যক্তিগত যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলছি না। তিনি রাজনীতিতে নবাগত- এটিও আমাদের আলোচনার বিষয় নয়। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে ভোটার বাস্তবতা, ভৌগোলিক ভারসাম্য এবং নির্বাচনী কার্যকারিতা নিয়ে।
ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করে গাজীপুর-২ আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হলে তা রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং সাংগঠনিকভাবে দুর্বল সিদ্ধান্তে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যক্তি-বিরোধিতা নয়, এটি দলীয় স্বার্থের প্রশ্ন। আমরা মনোনীত প্রার্থীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল, দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্যে বিশ্বাসী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের প্রতি বিনীত কিন্তু দৃঢ় আহ্বান জানাচ্ছি, পুনর্গঠিত গাজীপুর-২ আসনের বর্তমান ভোটার ও ভৌগোলিক বাস্তবতা পূর্ণাঙ্গভাবে বিবেচনা করা হোক। টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল এলাকার সাংগঠনিক মতামত গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হোক। প্রয়োজনে বর্তমান মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা অথবা বিকল্প প্রার্থী মূল্যায়ন করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য প্রার্থী জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, গাজীপুর মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী জসিম উদ্দিন ভাট, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন কায়সার, বিএনপি নেতা মাহবুবুল আলম গোলাপ, সাবেক পৌর মেয়র মোহাম্মদ আব্দুল করিম, সরকার শাহানুর ইসলাম রনি, সৈয়দ আখতারুজ্জামান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন- সাধনা মহিলা উন্নয়ন সংস্থার উদোগ্যে ৭দিন ব্যাপী “ব্লক ও বাটিক প্রিন্টিং” প্রশিক্ষণের উদ্ধোধন
দেখুন- ‘আগে অনেক দৃশ্যমান শক্তি দেখতাম, এখন অদৃশ্যমান শক্তি দেখছি’


