বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও নির্মম নির্যাতনের শিকার সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাঁর জন্মভূমি পাবনার সুজানগরে প্রত্যাবর্তন করেছেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে তাঁর আগমনে বেড়া ও সুজানগর উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রাজকীয় সংবর্ধনা ও জনসমুদ্র
তুষারের এলাকায় পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানাতে রাস্তায় নেমে আসেন। বিকেলে তাঁকে বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় চিনিখরা স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। সেখানে পাবনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিম রেজা হাবিবের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি।
সেই বিভীষিকাময় দিনগুলো
বক্তব্যে তুষারের ওপর নেমে আসা রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসে।
২৪ জুলাই ২০২৪ রাজধানীর মিরপুরের নিজ বাসা থেকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ পরিচয়ে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়।
পরিবারের সামনে থেকে তুলে নেওয়া হলেও শুরুতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার করে, যা চরম উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ ৮ দিন তথাকথিত ‘আয়নাঘর’ বা অজ্ঞাত স্থানে বন্দি রাখার পর ১ আগস্ট তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। অবশেষে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতনের পরদিন, ৬ আগস্ট তিনি মুক্তি লাভ করেন।
নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, তুষার কেবল একজন নেতাই নন, বরং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের এক জীবন্ত প্রতীক। গুম ও নির্যাতনের দুঃসহ স্মৃতি কাটিয়ে তাঁর ফিরে আসা পাবনার রাজনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। সাধারণ মানুষের মতে, তুষারের এই ফেরা তৃণমূল পর্যায়ে সাহসের যোগান দিচ্ছে।
জনসভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, তুষারের মতো ত্যাগী নেতাদের হাত ধরেই আগামীর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।
পড়ুন:নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষ, আহত ১২
দেখুন:হিরো আলমকে মা*রধর: বিচারের আশা যুক্তরাষ্ট্রের, জাতিসংঘের উদ্বেগ |
ইম/


