কেরানীগঞ্জের কালিন্দী থেকে মা-মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২১ দিন নিখোঁজ থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ডায়াবেটিস বাজার এলাকার গৃহশিক্ষিকার বাসা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে ওই বাসা থেকে পচা দুর্গন্ধ আসছিল, পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। নিহতের স্বামীর অভিযোগ, তিনি বারবার পুলিশ ও বাড়ির মালিকের কাছে সহায়তা চাইতে গেলেও কোনো সাড়া পাননি।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ ডিসেম্বর কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিবাগের গোকপাড়ের একটি বাড়িতে গৃহশিক্ষিকার বাসায় পড়তে যান স্কুলশিক্ষার্থী জুবাইদা রহমান ফাতেমা। এরপর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। খোঁজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ফাতেমার মা রোকেয়া রহমানও।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওই বাড়ির ২য় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। খাটের নিচে ও বাথরুমের ছাদ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
বাড়ির মালিক জানান, তার স্ত্রী সিসিটিভি ফুটেজে অস্বাভাবিক কিছু দেখেন এবং তাতে তিনি সন্দেহ করেন। পরে, তাদের ফোনে কান্নার আওয়াজ শোনা যায় এবং গেট খোলার সময় অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায়।
এলাকাবাসীদের মতে, ঘটনার পর বাড়ির লোকজন দুই-তিন দিন কোথাও চলে গিয়েছিল। নিহত শিক্ষার্থীর বাবা শাহীন আহম্মেদ অভিযোগ করেন, পুলিশের কাছে বারবার গিয়েও কোনো সাহায্য পাননি। তিনি জানান, পুলিশ তাদের বিষয়টি আমলে নেননি এবং সন্দেহজনক আচরণও উপেক্ষা করা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, নিহতের দুটি ফোন নম্বর ট্র্যাক করে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রনি চৌধুরী বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি, তবে পুরো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।”
এ ঘটনায় গৃহশিক্ষিকাসহ চারজনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম সাইফুল আলম জানান, “তদন্ত চলছে এবং সঠিক তথ্য বের করতে আমরা কাজ করছি।”
পড়ুন: রাজধানীর উত্তরায় ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৬
আর/


