রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে বিভিন্ন সংঘাতের সময় পশ্চিমা দেশগুলো আর্কটিক অঞ্চলকে ব্যবহার করতে পারে। তিনি বলেন, ডেনমার্কের স্বশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার পরিকল্পনা দেশটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) এই মন্তব্য করেন তিনি রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর মুরমানস্কে আর্কটিক ফোরামে।
ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ট্রাম্পের মতে, “আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য” এই দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, এ পরিকল্পনা গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্বের কারণে বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে। তবে এই পরিকল্পনার বিষয়ে পুতিনের মন্তব্য ছিল, “এটি ফাঁকা বুলি মনে করা হবে, এটা বড় ধরনের ভুল হবে।”
পুতিন আরো বলেন, “আমরা গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে আমেরিকার পরিকল্পনার গুরুত্বসহকারে আলোচনা করছি। এসব পরিকল্পনা দীর্ঘ দিনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পর্কিত।” যদিও গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে সরাসরি রাশিয়া কোনো বিতর্কে জড়িত নয়, তবে পুতিন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ন্যাটো জোটের দেশগুলো সম্ভবত আর্কটিক অঞ্চলের উত্তরের অংশ ব্যবহার করতে পারে, বিশেষত যেকোনো সংঘাতের সময়।

গ্রিনল্যান্ড নুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের স্বাধীনতা চাওয়া। গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল হলেও, সেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের নেতারা জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চান না। ২০১৯ সালে, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, কিন্তু ডেনমার্ক তা নাকচ করে দেয়।
পুতিনের আশঙ্কা, আর্কটিক অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পরিবর্তন হতে থাকা সমুদ্রপথগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং তাতে পশ্চিমা দেশগুলোর স্বার্থ বৃদ্ধি পাবে। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়া নিজেদের কৌশলগত স্বার্থের জন্য তৎপর রয়েছে, যখন সেখানে সামরিক উপস্থিতি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়ছে।
গ্রিনল্যান্ডের পরবর্তী রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা চলতে থাকলেও, ডেনমার্কের সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, গ্রিনল্যান্ডের জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের ভবিষ্যত নির্বাচন করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।
পড়ুন: গ্রিনল্যান্ড সফরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল,ডেনমার্কের উদ্বেগ
দেখুন:বাঙ্কারে ঢুকেই পারমাণবিক হা*ম*লা*র বোতাম টিপবেন পুতিন?
ইম/


