১৩/০১/২০২৬, ১৯:৫৬ অপরাহ্ণ
22 C
Dhaka
১৩/০১/২০২৬, ১৯:৫৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

গ্রেফতারে ভয়ে পরিষদে আসেন না ইউপি চেয়ারম্যান, চরম ভোগান্তিতে ইউনিয়নবাসী

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তালুককানুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডল। পাশাপাশি তিনি উপজেলা আ’লীগের ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজ্ঞাপন

মাসুদ ছাত্রজীবন থেকেই আ’লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আ’লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তার দাপটে পুরো উপজেলার কাঁপতো। ৫ অগাস্ট হাসিনা পতনের পর থেকেই তিনি আড়ালে চলে যান। এর মধ্য বেশ কয়েকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছেন। গ্রেফতারের আতংকে চেয়ারম্যান নিয়মিত পরিষদে না বসায় ভোগান্তি পড়ছেন সেবাগৃহীতরা।

গত এক মাস ধরে তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন করতে ঘুরছেন উত্তরপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেন। প্রতিদিনই এসে দেখেন চেয়ারম্যানের দরজায় ঝুলছে বিশাল এক তালা। কবে আসবেন চেয়ারম্যান তার কোনো উত্তরই পাচ্ছেন না তিনি।

চেয়ারম্যানের একটি স্বাক্ষর পেতে মকবুল হোসেনের মতো তালুককানুপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মথুরাপুর গ্রামের গৃহিণী পারভীন বেগম, ৩নং ওয়ার্ডের সিংহডাংগা গ্রামের বৃদ্ধ আলম মিয়া তাদের কাজের জন্য পরিষদে ঘুরছেন দিনের পর দিন।

স্থানীয়রা দাবি করেন, ২০২৫ সালের গত অক্টোবর মাস থেকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদে আসেন না ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডল। ফলে চেয়ারম্যানের একটি স্বাক্ষরের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষদের।

ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। ৯টি ওয়ার্ডের তেলিয়া, দামোদরপুর, ফুলবাড়ি, ছোট নারায়নপুর, ছোট নারিচাগাড়ী, বেড়া মালঞ্চ, চিয়ারগ্রাম, দেবপুর, সিংহডাংগা, উত্তরপাড়া, চক শিবপুর, রাঘবপুর, কাপাসিয়া, তালুককানুপুর, নোদাপুর, সমসপাড়া, চন্ডিপুর, তাজপুর, সুন্দইল, উত্তর ছয়ঘড়িয়া, কমল নারায়নপুর, বড় নারায়নপুর, মথুরাপুর গ্রাম রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের অফিস গুলোতে তালা ঝুলছে। দুইজন গ্রাম পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। সাধারন মানুষরা জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদ, স্থায়ী বাসিন্দা সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন প্রত্যয়নের জন্য আসছে। কিছুক্ষন অপেক্ষার পর ফিরে যাচ্ছেন তারা।

সেবাগৃহীতা মমতা বেগম বলেন, কয়েকদিন হলে সনদের জন্য পরিষদে আসছি। চেয়ারম্যান পরিষদে না আসার কারনে পত্তি আসি আর ঘুরে যাই।

ইয়াকুব আলী বলেন, ছলের জন্ম নিবন্ধনের জন্য আসছিলাম। পরিষদে চেয়ারম্যান নাই। তাই ঘুরে যাচ্ছি।

এভাবে একটা স্বাক্ষর পেতে দিনের পর দিন ঘুরছে পরিষদের বারান্দায় সাধারন মানুষ। এতে প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতের ফলে সাধারণ জনগণের অতিরিক্ত টাকা ও সময় অপচয় হচ্ছে।

ইউনিয়নের আরেক বাসিন্দা ছালাম মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব আ’লীগ করতো। পুলিশ আ’লীগকে খালি ধরছে৷ সেই ভয়ে পরিষদে আসেন না। মনে হয় ভোটের পর ক্লিয়ার হয়ে গেলেই। যাই উঠপে তার সাথে মিমাংশা করে চেয়ারমানি চলাবে।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাসুদ রহমান বলেন, চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন না। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছে গ্রাম আদালত, মাসিক মিটিংসহ পরিষদের অন্যান্য কার্যক্রম। অনেকেই এসে ফিরে যাচ্ছেন। এতে অনেকটা ভোগান্তি চরমে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের একজন ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডল ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানাবিধ অপকর্ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে গ্রামবাসী মানববন্ধনও করেছে যা গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। ৫ আগষ্টের পর থেকে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন না। এমনকি তার ফোন অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকে। এতে সাধারণ মানুষের তীব্র ভোগান্তি হচ্ছে। অতিদ্রুত প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে তিনি।

এ বিষয়ে জানতে তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডল মুঠো ফোনে বলেন, সময় তো খারাপ। আপনাদের যাহা ইচ্ছা তাই লেখেন। কয়েকজন মেম্বার আমার পিছনে লাগছে। সময় আসলেই সব কিছুর জবাব দিব।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়টা জানতে পেরেছি। আমরা খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

পড়ুন- চুয়াডাঙ্গায় সেনাবাহিনীর হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ ; নেতা-কর্মীদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

দেখুন- তরুণ সমাজের প্রতি নতুন যে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন