কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক জনপ্রিয় ইমেজ ও ভিডিও তৈরির টুল ‘গ্রোক ইম্যাজিন’ নিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে তুমুল বিতর্ক। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) এবং রেডিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ব্যবহারকারীরা। অভিযোগ উঠেছে, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই টুলটির ব্যবহারসীমা কমিয়ে দিয়েছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআই।
এতদিন গ্রোক ইম্যাজিনে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সুবিধা বিনামূল্যে থাকলেও, বর্তমানে তা কার্যত ‘পেওয়াল’ বা অর্থের বিনিময়ে ব্যবহারের সীমানায় আটকে গেছে। ফ্রি ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, তাদের দৈনিক ব্যবহারের সুযোগ প্রায় বন্ধের পথে। বিশেষ করে ৬ সেকেন্ডের আকর্ষণীয় ভিডিও তৈরির যে সুবিধা আগে ছিল, তা এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে প্রবেশ করতে গেলেও সরাসরি ‘আপগ্রেড টু সুপারগ্রোক’ বার্তা দেখানো হচ্ছে।
ব্যবহারসীমা কমানোর ধাক্কা লেগেছে পেইড বা অর্থ প্রদানকারী গ্রাহকদের ওপরও। যারা ‘সুপারগ্রোক’ বা প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ব্যবহার করেন, তাদের দাবি- ভিডিও তৈরির কোটা আগের তুলনায় কয়েকগুণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দৈনিক ব্যবহারের সীমা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক গ্রাহক। এর ফলে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ জানিয়ে বলছেন, তারা গ্রোকের সাবস্ক্রিপশন বাতিল করার কথা ভাবছেন।
ব্যবহারকারীদের এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে মুখ খুলেছে গ্রোক কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, ভিডিও কোটা কমে যাওয়া মূলত একটি ‘গ্লিচ’ বা সাময়িক কারিগরি ত্রুটি। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “ভিডিও কোটার সমস্যা একটি ‘গ্লিচ’ বা সাময়িক ত্রুটি। ব্যর্থ চেষ্টাগুলো যেন ব্যবহারকারীর কোটা কমিয়ে না দেয় সে বিষয়েও কাজ চলছে।” একই সঙ্গে তারা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, অতিরিক্ত চাহিদা সামাল দিতে কিংবা স্প্যাম এবং ডিপফেক-এর মতো অনৈতিক কনটেন্ট ঠেকানোর আইনি চাপের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। আবার অনেকে মনে করছেন, আয়ের পথ বাড়াতে এটি এক্সএআই-এর কৌশলগত কোনো পরিবর্তনের অংশ।
পড়ুন- সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা


