১৮/০২/২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
29 C
Dhaka
১৮/০২/২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ঘটনাস্থলে না থেকেও হত্যা মামলার আসামি ছাত্রদল নেতা

বরগুনার তালতলীতে ঘটনাস্থলে না থাকলেও মো. মাহবুবুর রহমান নামে এক ছাত্রদল নেতকে হত্যা মামলার আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রদল নেতাকে ষড়যন্ত্র মূলক আসামি করায় ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন দলটির নেতারা।

ছাত্রদল নেতা মো. মাহবুবুর রহমান তালতলী কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ক্রীড়া-সম্পাদক ও উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের ছোট ভাইজোড়া গ্রামের মো. মস্তফা হাওলাদারের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের ছোট ভাইজোড়া গ্রামের সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্পের পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার (০৬ জুন) রাত ৯ টার দিকে মো. সুলতান হাওলাদারের পরিবার ও মো. শাহজালাল হাওলাদারের পরিবারের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হয়।

আহতরা হলেন- মো. দুলাল হাওলাদার, মোসা. নাসরিন, মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার ও মোসা. হনুফা। তারা সবাই রাত ১০ টা থেকে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পরে খবর পেয়ে আহত মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে দেখতে তার ভাই মো. জাকির হোসেন হাওলাদার রাত ১১ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। এ সময় জাকির হোসেন হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করার সময় পা খেতলে পড়ে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এসময় তাকে জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরিক্ষা-নিরিক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জাকির হোসেন পাইলস (অর্শ) অপারেশন করা ছিলো। এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস রোগ ও হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

এঘটনায় গত শনিবার (০৭ জুন) মো. জাকির হোসেনকে হত্যার অভিযোগ এনে ৬ জনকে এজাহারভুক্ত এছাড়াও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে তালতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তার স্থী মোসা. খাদিজা বেগম। ভিকটিম জাকির হোসেন মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও বড়বগী ইউনিয়নের দক্ষিন সওদাগর পাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ হত্যা মামলায় ৬ নাম্বার আসামি করা হয় ছাত্রদল নেতা মো. মাহবুবুর রহমানকে। মামলায় এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিরা হলেন- ১/ মো. দুলাল হাওলাদার, ২/ মো. হোসাইন তালুকদার, ৩/ মো. রাজিব হাওলাদার, ৪/ মো. সুলতান হাওলাদার, ৫/ মো. আবু-সালেহ।

মামলার এজাহার বলা হয়, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের ছোট ভাইজোড়া গ্রামের সরকারি আশ্রায়নের পুকুরে মামলার ৩ নাম্বার সাক্ষী মোসা. হনুফা বেগমসহ আসামিরা মাছ ধরতে ছিলো। উক্ত মামলার ১ নাম্বার সাক্ষী মো. জাহাঙ্গীরের সাথে আসামিদের পূর্ব হতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। পরে মাছ ধরা শেষ হলে সাক্ষীরা ও আসামিরা মিলে রাত সাড়ে ১১ টায় দিকে মাছ বন্টন করতে ছিলো। এসময় আসামিরা প্রথমে হনুফা বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় হনুফা বেগম আসামিদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাথারী কিল, ঘুষি মারতে থাকে তখন তিনি ডাক-চিৎকার করলে অন্যান্য সাক্ষীরা এগিয়ে আসলে আসামীরা তাদের হাতে থাকা লোহার রড, লোহার হাতুড়ি ও লাঠি সোঠা দিয়ে ভিকটিমসহ সাক্ষীদের এলোপাথারীভাবে পিটাতে থাকে। একপর্যায়ে সকল আসামিরা ভিকটিম জাকির হোসেন এর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও বুকে সজোরে একাধিক লাথি মারতে থাকে। ইহাতে জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে যায়। এসম তাকে রক্ষা করার জন্য মামলার ১ নাম্বার সাক্ষী জাহাঙ্গীর হাওলাদার এগিয়ে আসলে সকল আসামিরা তাকে লোহার রড, লোহার হাতুড়ি ও লাঠি সোঠা দিয়ে এলোপাথারী পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্থানে নীলা-ফুলা জখম করে। পরে ভিকটিমসহ ১ নাম্বার সাক্ষী জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে। একপর্যায়ে ভিকটিম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে প্রচন্ড বুকে ব্যাথা অনুভব করলে সাক্ষীরা তাকে জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রয়োজনীয় পরিক্ষা-নিরিক্ষা শেষে শনিবার (০৭ জুন) রাত ১ টা ৪৭ মিনিটের সময় মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার দিন শুক্রবার (০৬ জুন) বিকাল ৫ টায় নিহত জাকির হোসেন ১ নাম্বার সাক্ষী তার ভাই জাহাঙ্গীরের বাড়িতে বেড়াতে আসেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

ছাত্রদল নেতা মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘এই মামলায় আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পতিত আওয়ামী দোসরা বাদীকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে আসামী করেছেন। এছাড়াও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমাকে এই হত্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না।’

মামলার বাদী ও নিহত জাকির হোসেনের স্ত্রী মোসা. খাদিজা বেগম বলেন, ‘আমি মারধরের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। সাক্ষীদের সাথে আলোচনা করে মামলায় আসামি দিয়েছি। আমি আসামিদের কাউকে চিনি না। মামলায় নির্দোষ কাউকে আসামি করা হলে তাকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে দেব।’

এবিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান অসীম বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা মাহবুবুর রহমানকে হয়রানি মূলক আসামী করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই একই সাথে এই মামলা সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি দেওয়ার জোর দাবি জানাই।’

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা মাহবুবুর রহমান এঘটনায় জড়িত না থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বরগুনায় একদিনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২, হাসপাতালে ভর্তি ১৭২

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন