১৩/০১/২০২৬, ১৫:৪৬ অপরাহ্ণ
26 C
Dhaka
১৩/০১/২০২৬, ১৫:৪৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ঘর থেকে শুরু করে রান্নাঘর, প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ে ক্যানসার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ    

আধুনিক জীবনে প্লাস্টিক ছাড়া একদিনও কল্পনা করা কঠিন। বোতল, বাটি, কনটেইনার থেকে শুরু করে পানির ট্যাংক সবখানেই প্লাস্টিকের উপস্থিতি। তবে এই সুবিধার আড়ালেই লুকিয়ে আছে কিছু নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি। প্লাস্টিক ব্যবহারে কোথায় সাবধান হওয়া দরকার, আর কীভাবে নিরাপদ থাকা সম্ভব সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন রায়পুরের অভিজ্ঞ ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. জয়েশ শর্মা।

বিজ্ঞাপন

২৫ বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত এই অনকোলজিস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিক ও নিরাপদ ব্যবহারের উপায় নিয়ে কথা বলেছেন। তার মতে, প্লাস্টিক থেকে নির্গত রাসায়নিক এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক এই দুই বিষয়ই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ।

প্লাস্টিক থেকে কীভাবে তৈরি হয় স্বাস্থ্যঝুঁকি

১. রাসায়নিক নিঃসরণ 
ডা. শর্মা জানান, প্লাস্টিক পুরোপুরি কৃত্রিম রাসায়নিক দিয়ে তৈরি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রাসায়নিক খাবার বা পানিতে মিশে যেতে পারে। কোন প্লাস্টিক থেকে কতটা রাসায়নিক বের হবে, তা নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর—

  • তাপ: প্লাস্টিক যত বেশি গরম হয়, রাসায়নিক নিঃসরণ তত বাড়ে।
  • প্লাস্টিকের মান: নিম্নমানের প্লাস্টিক বেশি ক্ষতিকর।
  • ব্যবহারের বয়স: পুরোনো প্লাস্টিকের ওপরের সুরক্ষিত স্তর ক্ষয়ে গেলে নিঃসরণ বেড়ে যায়।
  • ২. মাইক্রোপ্লাস্টিক
  • চোখে দেখা যায় না এমন অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাকে বলা হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক। সূর্যালোক ও পরিবেশগত প্রভাবে বড় প্লাস্টিক ভেঙে এসব কণা তৈরি হয়। ডা. শর্মার মতে, আজকের দিনে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবার, পানি, বাতাস এমনকি আমাদের রক্ত ও কোষেও পাওয়া যাচ্ছে।
  • শরীরে প্লাস্টিক ঢুকলে যেসব সমস্যা হতে পারে
  • প্লাস্টিকজাত উপাদান শরীরে ঢুকলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে—
  • হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত
  • শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি
  • ডা. শর্মা বলেন, এখনো সরাসরি প্রমাণ নেই যে প্লাস্টিক নিশ্চিতভাবে ক্যানসারের কারণ। তবে কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকিপথ নিয়ে গবেষণা চলছে। ঝুঁকি কম হলেও, একেবারে উপেক্ষা করার মতো নয়।ঘর ও রান্নাঘরে প্লাস্টিক নিরাপদে ব্যবহার করবেন যেভাবে
  • প্লাস্টিক, খাবার ও তাপ এই তিনের সমন্বয় এড়িয়ে চলুন।
  • মাইক্রোওভেনে ‘মাইক্রোওভ-সেইফ’ লেখা থাকলেও, কাচ বা সিরামিক পাত্র ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
  • বাসার ছাদের পানির ট্যাংক সাধারণত স্থিতিশীল ধরনের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে এতে বড় ধরনের ঝুঁকি থাকে না।
  • গোসলের বালতির পানি পান করার জন্য নয়, তাই এতে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।
  • শিশুদের দুধের বোতল সাধারণত বিপিএ-মুক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। চাইলে স্টিল বা কাচের বোতল ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে নিপল অবশ্যই সিলিকনের হওয়া উচিত।
  • ভালো মানের সিলিকন মোল্ড মাঝারি তাপে বেকিংয়ের জন্য নিরাপদ।
  • মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে বাঁচতে করণীয়
  • ডা. শর্মার তথ্য অনুযায়ী, শরীরে প্রবেশ করা প্রায় ৫০ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক আসে পানির মাধ্যমে। তাই
  • পানির ফিল্টার ব্যবহার করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে। ঘরের ভেতরে বাইরের তুলনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক বেশি জমে। তাই নিয়মিত জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার ও ভেজা মোছা ঘর পরিষ্কারে কার্যকর।
  • প্লাস্টিক পুরোপুরি এড়িয়ে চলা বাস্তবসম্মত নয়। তবে সচেতন ব্যবহারেই অনেক বড় ঝুঁকি কমানো সম্ভব। দৈনন্দিন জীবনে সামান্য অভ্যাস বদলালেই নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

পড়ুন: জকসু নির্বাচন: ফলাফলে এগিয়ে ছাত্র

দেখুন: ভারত সোনার মজুত এত বাড়াচ্ছে কেন?

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন