26.7 C
Dhaka
০৭/০৩/২০২৬, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ঘূর্ণিঝড় সিডরের ১৮ বছর পূর্ণ আজ, ঝুঁকি এড়ানোর বাঁধই ঝুঁকিতে,তিন চরে আজও নেই সুরক্ষা!

দুর্গম তিন চর-চরনজির, চরকাশেম ও চরহেয়ার। ঘূর্ণিঝড়প্রবণ উপকূলীয় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর এই তিন চরে আজও নেই কোন বেড়িবাঁধ। সাগর আর নদীর জোয়ারে যখন পানি বাড়ে, তখন ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু বাঁচানোই হয়ে পড়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর ঘূর্ণিঝড় এলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ১৮ বছর আগে সিডরের ভয়াবহতা দেখেছিলো এ জনপদ, কিন্তু তারপরও তিন চরের ভাগ্যে জোটেনি নিরাপত্তা দেয়াল।

বিজ্ঞাপন

ঘূর্ণিঝড় সিডরের আজ শনিবার ১৮ বছর পূর্ণ হলেও রাঙ্গাবালীর সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত হয়নি। শুধু এই তিন চরই নয় যেসব স্থানে বেড়িবাঁধ রয়েছে সেখানকার মানুষও নিরাপদ নন। বহু বছর আগে নির্মিত বাঁধগুলোর উচ্চতা কমে এসেছে, কোথাও কোথাও বাঁধ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে ঢোকে, আর কোথাও রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। ফলে পুরো রাঙ্গাবালীই দুর্যোগে অরক্ষিত এক দ্বীপ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৭ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ধাপে ধাপে উপজেলার ছয় ইউনিয়নে ১৮৭ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। যার উচ্চতা ছিল মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৪ মিটার। অথচ সময়ের ব্যবধানে এসব বাঁধের উচ্চতা কমে এসেছে দুই-তিন মিটারে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বউবাজার, নয়ারচর, মিটারবাজার, চরআন্ডা, আর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের মধ্য চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা, চরলতাসহ সব জায়গাতেই দেখা গেছে বাঁধের বেহাল অবস্থা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন করে যে বাঁধ সংস্কার হচ্ছে সেগুলোও টেকসই নয়; বছর না ঘুরতেই আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পাউবোর হিসাব বলছে, চালিতাবুনিয়ায় মধ্য চালিতাবুনিয়া ও চরলতা এলাকায় সাড়ে তিন কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে আছে, দুই কিলোমিটার ঝুঁকিতে। চরমোন্তাজের চরআন্ডায় সাড়ে তিন কিলোমিটার বাঁধ বিধ্বস্ত, মিটার বাজারসংলগ্ন দুই কিলোমিটার এবং চরআন্ডার আরও আড়াই কিলোমিটার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ।

আগুনমুখা ও ডিগ্রি নদীর ভাঙনকবলিত চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের বিবির হাওলা গ্রামের শাজাহান প্যাদা বলেন, ‘বাঁধ ভাঙা থাকায় জোয়ারের পানি বাড়লে হু হু করে পানি ঢুকে যায়। বাড়িঘর সব তলিয়ে যায়। আমরা খুব কষ্টে আছি।’ মধ্য চালিতাবুনিয়া গ্রামের ওমরসানি বলেন, ‘প্রত্যেক বছর বাঁধ মেরামত করে। বছর না ঘুরতেই আবার নতুন করে ওই বাঁধ ভেঙে যায়। এতে সরকারের অর্থ আপচয় হয়, আর কাজেও আসে না। যেনতেন করে এই বাঁধগুলো না করে ভালভাবে টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে করা উচিত।’

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, যেসব এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত প্রয়োজন, সেসব এলাকায় বাঁধ সংস্কারের কাজ করা হবে। রাঙ্গাবালীর নদী ভাঙন কবলিত চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজে ব্লগ দিয়ে বাঁধ নির্মাণে প্রয়োজন হাজার হাজার কোটি টাকা। এজন্য বড় প্রকল্প হাতে নিতে হবে। উপকূলীয় বেড়িবাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে রাঙ্গাবালীর কিছু বাঁধ ৭ থেকে সাড়ে ৭ মিটার উচ্চতায় নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি এখনও প্ল্যানিং পর্যায়ে আছে।

জলবায়ু গবেষক ড. মো. শাহরিয়ার জামান বলেন,‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি এখন আরও প্রকট। শুধু সিডরেই ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। অথচ এখনও অনেক এলাকায় শোনা যায় মানুষের জানমাল রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। ৭০ দশকের পর নির্মিত বাঁধগুলো এখন দুর্বল এবং নাজুক অবস্থা। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লেও বাঁধের উচ্চতা বাড়ছে না। উপকূলীয় এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষায় ব্লক বাঁধ এবং উচ্চতা বাড়িয়ে টেকসই সুরক্ষা ব্যবস্থা না করলে উপকূল অরক্ষিতই থেকে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় হলেই আতঙ্ক, নদীভাঙন হলেই ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কা। তাই নিরাপদ বেড়িবাঁধের দাবিটি তাই আর শুধু দাবি নয় উপকূলের মানুষের টিকে থাকার প্রশ্ন।’

পড়ুন- নাগরিকে সংবাদ প্রকাশের পর অন্ধ পারেছা খাতুনের পাশে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক

দেখুন- ‘আওয়ামী লীগ একটা নিষিদ্ধ সত্ত্বার নাম’ |

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন