দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে অচলাবস্থার পর পুনরায় দ্বিতীয়বারের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী ১১ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একইদিন ভোট গণনা এবং ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
রোববার (১০ আগস্ট) বেলা সাড়ে তিন টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সিনেট কক্ষে পুনরায় এই তফসিল ঘোষণা করা হয়। গত ১ মে প্রথমবারের মতো জাকসুর তফসিল ঘোষণা করে প্রশাসন।
তফসিল ঘোষণা করেন জাকসু নির্বাচনের লক্ষ্যে গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান। এসময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. খো. লুৎফুল এলাহী, ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “তফসিল অনুযায়ী ১০ আগস্ট রাত বারোটার মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা ও আচরণবিধি প্রকাশ করা হবে। এছাড়াও খসড়া ভোটার তালিকা সম্পর্কে আপত্তি গ্রহণের শেষ তারিখ ১৪ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত, খসড়া আচরণবিধি সম্পর্কে মতামত গ্রহণের শেষ তারিখ ১৪ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত, ১৭ আগস্ট চূড়ান্ত হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ ও চূড়ান্ত আচরণবিধি প্রকাশ, ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, মনোনয়নপত্র জমাদান (প্রার্থী কর্তৃক) ১৮ থেকে ১৯ আগস্ট।”
তিনি বলেন, “মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২১ আগস্ট, খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ২৫ আগস্ট, মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিষয়ে এবং বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন গ্রহণ ২৬ আগস্ট, ২৭ আগস্ট আপিলের শুনানী গ্রহণ ও আপিলের রায় ঘোষণা, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৮ আগস্ট, প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ২৯ আগস্ট, নির্বাচনী প্রচারণা ২৯ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর, ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে এবং একই দিনেই ভোগ গণনা এবং ফলাফল প্রকাশ করা হবে।”
এ সময় জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য ও জাবি প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “জাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এরইমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বহিরাগতরা যেন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারেন, সেজন্য আমাদের নিরাপত্তারক্ষীরা সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।”
সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদেরও সহযোগিতা চান তিনি। তিনি বলেন, “একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, জাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালে। ১৯৯৩ সালে সিন্ডিকেটে হট্টগোলের কারণে তখন থেকে বন্ধ আছে জাকসুর কার্যক্রম। ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট আটবার জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নবমবারের মতো জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবছরের ৩১শে জুলাই।
পড়ুন: খুলনায় মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে খুবি শিক্ষার্থীদের ‘শহীদ মীর মুগ্ধ হল’ ঘোষণা
দেখুন: জয়পুরহাটে হত্যা মামলায় মা-ছেলেসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড |
ইম/


