বিজ্ঞাপন

চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন নভোচারীরা

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনেটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা)-এর নভোযান আর্টেমিস ২’র নভোচারীরা ফিরে এসেছেন। দশ দিনের সফল অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন তারা।

বিজ্ঞাপন

গতকাল ১০ এপ্রিল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ উপকূলে আর্টেমিস ২’র নভোযাত্রীদের বহনকারী নাসার ওরিয়ন ক্যাপসুল অবতরণ করে। তার কিছু সময় পর নাসার উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় ক্যাপসুল থেকে বের হন নভোচারীরা।

গত ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশে রওনা হয় আর্টেমিস ২ নভোযান। রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) এবং জেরেমি হ্যানসেন (৫০)— চার নভোযাত্রী অংশ নিয়েছিলেন নাসার এই চন্দ্রাভিযানে। এই চার জনের মধ্যে প্রথম ৩ জন যুক্তরাষ্ট্রের এবং চতুর্থজন কানাডার নাগরিক।

নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযানে আর্টেমিস ২ পৃথিবীর দুই অক্ষপথ প্রদক্ষিণের সময় ১১ লাখ ১৭ হাজার ৫১৫ কিলোমিটার এবং চাঁদের চূড়ান্ত ফ্লাইবাই-এর ২ লাখ ৫২ হাজার মাইল অতিক্রম করেছে। মহাকাশে কোনো গ্রহ বা অন্য কোনো বস্তু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য তার পাশ দিয়ে অনুসরণ করার পথকে ফ্লাইবাই বলা হয়। ফ্লাইবাইয়ের সময় মহাকাশযানটি খুব কাছ দিয়ে যায়, কিন্তু মহাকর্ষের টানে কোনো কক্ষপথে ‘আবদ্ধ’ হয় না।

পৃথিবীতে নভোচারীদের ফিরে আসার ব্যাপারটি বেশ শ্বাসরুদ্ধকর ছিল। ওরিয়ন ক্যাপসুল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে অবতরণ করতে সময় লেগেছে ১৩ মিনিট। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর বাতাসের ঘর্ষণে ক্যাপসুলটির বাইরের তাপমাত্রা ২ হাজার ৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল। পুরো ক্যাপসুলটি পরিণত হয়েছিল একটি অগ্নিগোলকে। প্রবল তাপের কারণে সেটির রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

এ কারণে সাগরে অবতরণের পর উদ্ধারকারী দলকে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয় ক্যাপসুলটি সহনীয় মাত্রায় ঠান্ডা হওয়ার জন্য।

তবে বাইরের তাপ ক্যাপসুলের ভেতরের নভোযাত্রীদের স্পর্শ করেনি। তারা সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। নাসার ইউটিউব চ্যানেলে তাদের অবতরণের দৃশ্য দেখেছে বিশ্বের ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ।

ক্যাপসুল থেকে নভোযাত্রীদের উদ্ধারে নাসার উদ্ধারকারী দলকে সহযোগিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। নাসার কর্মকর্তরা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত তারা নৌবাহিনীর জাহাজে কাটিয়েছেন। আজ শনিবার টেক্সাসের হিউস্টোনে পরবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হবেন তারা।

১৯৬০ সালে প্রথম চাঁদে পৌছানোর মিশন শুরু করে নাসা। সেই মিশনের সাফল্য আসে ১৯৬৯ সালে। সেই বছর প্রথম অ্যাপোলো ১১ নামের এক নভোযানে চেপে চাঁদে পৌঁছান তিন মার্কিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং, অ্যাডউইন অলড্রিন এবং মাইকেল কলিন্স। চাঁদে নাসা সর্বশেষ যে নভোযান পাঠিয়েছিল ১৯৭০ সালে, অ্যাপোলো ১৩ নাম ছিল সেই নভোযানটির।

কয়েক বছর আগে নাসা ফের চন্দ্রাভিযানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে ফের চাঁদে মানব নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য নেয়। নাসার সেই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে প্রস্তুতিমূলক অভিযান হিসেবে পরিচালনা করা হয়েছিল আর্টেমিস ২ মিশন।

তবে প্রস্তুতিমূলক হলেও একাধিক কারণে এই অভিযানটি ঐতিহাসিক। কারণ এর আগে ১৯৭০ সালে পৃথিবী থেকে উৎক্ষেপিত হওয়ার পর মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়েছিল অ্যাপোলো ১৩। এতদিন পর্যন্ত এটি ছিল একটি রেকর্ড। সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়ে আর্টেমিস ২ পাড়ি দিয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল।

তাছাড়া নাসার চন্দ্রাভিযানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মিশনে নভোচারী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন একজন নারী (ক্রিস্টিনা কোচ) এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ বিদেশি নাগরিক (কানাডার নাগরিক জেরেমি হ্যানসেন)।

অভিযান শেষ করে ফিরে আসার সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের কয়েক মিনিট আগে মিশনের কমান্ডার নভোচারী রেইড ওয়াইজম্যান এক রেডিওবার্তায় বলেছিলেন, “আমরা (ক্যাপসুলের) ২ নম্বর জানালা দিয়ে চাঁদের দারুণ একটা দৃশ্য দেখেছি – গতকালের চেয়ে একটু ছোট লাগছে। মনে হচ্ছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।”

পড়ুন:লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে আকবর হোসেনের পদত্যাগ

দেখুন:ইরানকে বিশ্বের সর্বাধুনিক মি/সা/ই/ল দিলো উত্তর কোরিয়া? 

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন