১৫/০১/২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
16 C
Dhaka
১৫/০১/২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

চরাঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে বিএনপি নেতার প্রাণনাশের হুমকি

নরসিংদীর চরাঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। সোমবার (১৬ জুন) সাংবাদিক মো. আবুল কাশেম নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর অনলাইনে একটি সাধারণ ডায়েরির আবেদন করলে এই অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

অভিযোগকারী আবুল কাশেম নরসিংদীর আলোকবালী গ্রামের আ. কাদির মিয়ার ছেলে। তিনি দৈনিক স্বাধীন সংবাদ-এর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইসাথে তিনি আলোকবালী আব্দুল মান্নান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সদস্য।

অভিযুক্ত আব্দুল কাইয়ুম আলোকবালী ইউনিয়নের নেকজানপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব। পেশাগতভাবে তিনি একজন বালু ব্যবসায়ী। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের দিলালপুর মৌজায় ইজারা নেওয়া বালুমহলের সীমানা অতিক্রম করে আলোকবালী, নেকজানপুর ও গৌরিপুরার চর এলাকার মধ্যবর্তী স্থান থেকে চুম্বক ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতেন। নিয়ম অনুযায়ী কাটিং ড্রেজার ব্যবহার করার কথা থাকলেও, তিনি প্রতিনিয়ত ১৫-২০টি চুম্বক ড্রেজার দিয়ে বালু তুলতেন।

এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা একাধিকবার নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়। পরে “চুম্বক ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমি কাটার অভিযোগ এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে” শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা, অনলাইন মাধ্যম ও টিভি চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

জেলা প্রশাসনের একাধিক অভিযানে জরিমানা আদায় করা হলেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর পক্ষে হানিফ হোসেন মুন্না নামে একজন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিট তদন্তে সোমবার মাঠে নামেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিনথিয়া হোসেন। তিনি সরেজমিন তদন্তে গেলে অনেকেই ভয়ে কিছু বলতে সাহস পাননি। তখন সাংবাদিক আবুল কাশেম এগিয়ে এসে সংবাদ কভারেজ ও রাতের বালু উত্তোলনের বিষয়টি ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করেন।

এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত আব্দুল কাইয়ুম মোবাইলে সাংবাদিক কাশেমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

উল্লেখ্য, আব্দুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিক কাশেম জানান, “আমি নিজেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন আলোকবালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও পরে যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করেছি। এখন আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আশা করি জেলা বিএনপির অভিভাবক খায়রুল কবির খোকন ভাই বিষয়টি আমলে নেবেন।”

এ বিষয়ে আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম চৌধুরী বলেন, “আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকির ভিডিও দেখেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি বিষয়টি খায়রুল কবির খোকন ভাইকে জানাব।”

অভিযুক্ত আব্দুল কাইয়ুমের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নরসিংদীতে কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন