চাঁদপুরের কচুয়ায় ৪নং পালাখাল মডেল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভূইয়ারা গ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে মনসামুড়া বাঁশ ঝাড়। খোলা মাঠে বিলের মাঝখানে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট হওয়া এই বাঁশের ঝাঁড়ের বাঁশ কাটতে গেলেই ঘটে বিপত্তি। যদিও স্থানটি সাপেদের স্বর্গরাজ্য বলেই জনশ্রুতি রয়েছে।
৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকালে এই বাঁশ ঝাড়ের বাঁশ কাটতে গিয়ে অনেকের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বীরা।
প্রিয়তোষ নামে একজন জানান, কয়েকশো বছর পূর্বে খোলা বিলের মাঝখানে হঠাৎ করেই সৃষ্টি হয় এই বাঁশ ঝাঁড়।এমনটাই আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের থেকে শুনেছি। তবে এখান হতে বাঁশ কেটে ব্যবহার করতে গিয়ে অনেকেই বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যাসহ মৃত্যুর কোলের ঢলে পড়েছে।
রাজীব নামে একজন জানান, এখানে জমিদার লোধ পরিবারের সদস্যরা থাকতেন। প্রায়ই এখানে প্রকাশ্যে বিষধর সাপ চলাচল করতে দেখা যায়। তারা স্বপ্নাদেশে জানতে পারেন মা মনসার পূজা করলেই সকল সমস্যার মুক্তি পাওয়া যাবে। এরপর থেকেই স্থানীয় জমিদার লোধ পরিবারের বংশপরম্পরায় এই বাঁশ ঝাড় ঘিরে মনসা পূজা করে এবং স্থানটির নাম হয় মনসা মুড়া।
রিপন নামে একজন জানান, বাঁশ ঝঁড়ের ভেতর নির্মাণ মনসা মন্দির করেন স্থানীয়রা। এই মন্দিরটি এতোটাই জাগ্রত যে, কোন মানত করলে তার ফল পাওয়া যায় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তবে বাঁশ ব্যবহারে মৃত্যু হওয়ার কথা চারদিকে জানাজানি হওয়ায় এখন আর কেউ এখানকার বাঁশের ঝাঁড়ের একটি বাঁশও কাটেনা এবং কোন কাজে ব্যবহারও করে না।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের কচুয়া যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অসীম পোদ্দার বলেন, জমিদার চাঁন সওদাগর পৃথিবীতে প্রথম মনসা পূজা আরম্ভ করেন। পূজা শেষে মনসা প্রতীমা নদীতে বিসর্জন দেন। স্বপ্নাদেশে জানা যায় সেই মনসা প্রতীমার অবয়বে ব্যবহার করা বাঁশের কঞ্চি ভাসতে ভাসতে এখানে এসে আটকে যায়। সেখান থেকে উৎপত্তি হয় এই এই বাঁশ ঝাড়ের। আর এরপরই এখানে সাপেরা তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ভেবে বসবাস শুরু করে। তখন সাপের দেবী মনসা পূজা শুরু হওয়ার পর থেকেই এ স্থানটি মনসা মুড়া নামে পরিচিত লাভ করে। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ ও ভাদ্র মাসের প্রথম দিন এখানে মনসা পূজায় হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে।
পড়ুন : চিকিৎসক সংকটে বন্ধ চাঁদপুরের ২ টাকার দাতব্য চিকিৎসালয়


