চাঁদপুরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাময়িক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবাসিক এলাকার গ্রাহকরা মাটি ও ইট দিয়ে তৈরিকৃত ভ্রাম্যমান চূলায় খাবার তৈরির চাহিদা মিটিয়ে নিচ্ছেন। পূর্বে থেকে কোন প্রকার মাইকিং না থাকায় খাবার তৈরি নিয়ে দূর্ভোগের কথা জানিয়েছেন গৃহানীরা। যদিও আবহাওয়া অনুকূলে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
১৯ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবাসিক এলাকাগুলোতে ইট ও মাটির চূলায় গৃহানীদের রান্না করতে দেখা যায়।
যমুনা রানী নামের এক গৃহানী জানান, সারাদিন গ্যাস আসার অপেক্ষা করে এখন রান্না করতে বসেছি। মাটি দিয়ে বানানো একটা চূলা পাশের গ্রাম থেকে এনেছি। কিছু কাগজ ও লাকড়ি জ্বালানি হিসেবে জোগাড় করেছি। এখন এ দিয়ে কোন রকমে ভাত, ডিম ও ডাল রান্না করছি।
মায়া রানী নামের আরেক গৃহানী জানান, আগে থেকে মাইকিং করলে আমাদের একটা পরিকল্পনা থাকতো। সারাদিন গ্যাসের অপেক্ষা করে না পেয়ে এখন ইট দিয়ে চূলা বানিয়ে নিয়েছি।কিছু শুকনো কাঠ জোগাড় করে রান্না করছি। আজ ত কোন রকমে চালিয়ে নিচ্ছি তবে কাল কি করবো তাই ভাবছি।

শিপ্রা বনিক নামের এক গৃহানী বলেন, খাবার আনতে হোটেলে গিয়ে দেখি খাবার শেষ। অনেক হোটেলে দামও বেশি। তাই বাধ্য হয়েই শুকনো খাবার কিনে এনেছি। দ্রুত গ্যাস সমস্যা সমাধান হলেই বাঁচি।
এ বিষয়ে বাখারাবাগ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড চাঁদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মীর ফজলে রাব্বী বলেন, চট্টগ্রাম মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে অবস্থিত ভাসমান টার্মিনালে আমদানি করা তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) জাহাজ থেকে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জাহাজ থেকে গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। চাঁদপুর এলাকার গ্যাসের একমাত্র সোর্স সাগরের এলএনজি। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি মহেশখালী টার্মিনাল হয়ে কুমিল্লার লাকসামের বিজরা নামক স্থান থেকে চাঁদপুরে আসে। সাগর উত্তাল কিংবা প্রাকৃতিক বৈরীভাব দেখা দিলে টার্মিনাল ও জাহাজের নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজ থেকে এলএনজি টার্মিনালে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে চাঁদপুর জেলার ১টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ৫টি সিএনজি স্টেশনসহ ২০ হাজার গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে আবহাওয়ার বৈরীভাব চলে গেলে ন্যুনতন সময়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সে পর্যন্ত গ্রাহকদের ধৈর্য্য ধরার অনুরোধ জানাচ্ছি।
এর আগে বাখারাবাগ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড কুমিল্লা কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। তবে চাঁদপুর জেলা শহরে বুধবার (১৮জুন) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। কিছু সময় আবার পুরোপুরি বন্ধ থাকে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ভোর থেকেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় আবাসিক গ্যাস সরবরাহ।
পড়ুন : গরুর দুধ সংকটে চাঁদপুরে ব্যাহত মিষ্টিজাত খাবার উৎপাদন


