চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়নি। তবে নদী ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বিভিন্ন স্থানে ত্রাণের জন্য অপেক্ষায় বন্যার্তরা। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে শুকনাে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের সংকট। কিন্তু চাহিদার তুলনায় তেমন কিছুই পাচ্ছে না বন্যাকবলিত এসব এলাকার বাসিন্দারা। তবে প্রশাসন বলছে, বরাদ্দ কম। তাই যতটা সম্ভব বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।
শুক্রবার পানি উন্নয়ন বোর্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় ১ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। গত ১৩ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় পানি ১ সেন্টিমিটার বেড়েছিল। তবে পরবর্তী ১৮ ঘণ্টায় আবার ১ সেন্টিমিটার কমে যায়। বর্তমানে পদ্মায় পানির সমতল ২১ দশমিক ৭৩ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা ৭ দিনের পানি বৃদ্ধিতে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ১১ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এতে দুই উপজেলায় ২ হাজার ২১২ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া ৪১টি বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বন্ধ হয়ে গেছে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আর ৯টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলায় ২৮ টন চাল ও ২৩০ পরিবারকে শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চার পরিবারকে আট বান্ডিল টিন ও ২৪ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব জানান, পানি কমতে শুরু করায় দ্রুত এসব এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে যাবে। এখন কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেসকল এলাকার ভাঙন প্রতিরোধে আমরা কাজ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।
পড়ুন : চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ১০ হাজার পরিবার


