বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনো দুর্ভোগ কমেনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বানভাসি মানুষের। পদ্মা নদী তীরের নিম্নাঞ্চলের এখন ১৫ হাজার পরিবারের প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন। দূষিত পানি পান ও বন্যার পানিতে চলাফেরা করার কারণে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বন্যাদুর্গত এলাকার বাসিন্দারা। চর্মরোগ, পেটের পীড়া, জ্বর ও ডায়রিয়ায় রোগে ভুগছেন বানিভাসিরা। প্রত্যাশিত চিকিৎসা না পাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে পানিবন্দি মানুষ। রয়েছে খাদ্য সংকটও । ৯ হাজার কৃষকের মাঠের ফসল নষ্ট হয়েছে বন্যায়। বন্যাদুর্গত এলাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে বিশেষ মেডিকেল টিম দাবি করছেন বানভাসিরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন।
সরেজমিনে চরাঞ্চল ঘুরে জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১৫হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। উজানের ঢল আর ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে করে ওইসব এলাকার মানুষের ঘর-বাড়ি পানিতে নিমজ্জিত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সদর উপজেলার নারায়ণপুর, শিবগঞ্জের পাঁকা ও দুর্ভলপুর ইউনিয়নের মানুষ।
দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুপেয় পানির অভাব, গো-খাদ্যসহ নানামুখি সঙ্কটের মধ্যে রয়েছেন পানিবন্দি মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পানিবন্দি মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়,চুলকানি ঘা এবং হেপাটাইটিস হেপাটাইটিস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পেলে এ রোগগুলো মহামারির আকার ধারণ করতে পারে। এছাড়া কৃষককের মাঠের ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খাদ্য সঙ্কটের কথা বলছেন তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাউসার আলী আক্ষেপ করে বলেন- আমরা অবহেলিত এলাকার মানুষ। এদিকে একবার কেউ আসলে পরের বার আসতে চান না। আমাদের ইউনিয়নটির প্রায় অংশই পানিবন্দি। এমন দুর্যোগ-দুর্ভোগের মাঝেও এবারে কোন চিকিৎসাসেবা পেলাম না। এখন তো প্রায় প্রত্যেক ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মানুষও কম নেই। এরপরেও চিকিৎসা দেয়ার জন্য কেউ এলেন না।
শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নের নিশি পাড়ার বাসন্দিা আবদুল কাদের বলেন, পানিবন্দি মানুষের বিশুদ্ধ পানির খুবই অভাব। এছাড়া ১০ দিনের বেশি সময় ধরে বাড়ির ভেতরসহ চারপাশে পানি থাকায় বিভিন্ন রোগের সম্মুখীন হচ্ছেন মানুষজন। চুলকানি থেকে শুরু করে পাতলা পায়খানাও হচ্ছে অনেকের। খাবারের পাশাপাশি এখন পানিবন্দি মানুষের বেশি প্রয়োজন চিকিৎসাসেবা। কিন্তু আমরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরই পদ্মা নদীর তীরে এমন অবস্থার সৃষ্টি হলেও কোন পূর্বাভাস আমাদের কাছে পৌঁছে না। যার কারণে আমরা পূর্বপ্রস্তুতি নিতে পারি না। বিষয় মেডিকেল টিমের মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহ দাবি জানান কাদের।
স্থানীয় কৃষক আসফাউল হক বলেন, অন্যের কাছে টাকা ধারদেনা করে ৫ বিঘা আউস ধান ও শাক সবজি লাগানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকায় সব পচে নষ্ট হয়ে যাবে। এমন অবস্থা কয়েক হাজার কৃষকের। ফসল নষ্ট হওয়ায় খাদ্যের চরম সঙ্কট দেখা দিবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা করে পর্যাপ্ত প্রণোদনা দেয়া হবে। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ একেএম শাহাব উদ্দীন বলেন, পাঁকা ও উজিরপুর ইউনিয়নের ৫টি গ্রামে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হয়েছে। পানিবন্দি মানুষদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন : চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ১০ হাজার পরিবার


