চাঁপাইনবাবগঞ্জে সোমবার সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি হয়। এতে শহরের ব্যস্ত সড়ক নিউমার্কেট ছাড়াও শহরকেন্দ্রিক সব রাস্তায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বেলা ১২টার পর বৃষ্টি কমলেও শহরবাসীকে জলাবদ্ধতায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয় সন্ধ্যা পর্যন্ত।
ভুক্তভোগী পৌরবাসি বলছেন, শহরের নিউমার্কেট ও আদালত চত্ত্বরসহ বেশির ভাগ সড়কের দুপাশে ড্রেনগুলোর বেহাল দশা এবং তাতে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে না পারায় এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এই ব্যাপক জলাবদ্ধতার জন্য শহরবাসী নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে দায়ী করছেন।
পৌরবাসীর অভিযোগ, এ শহরের পানিনিষ্কাশনব্যবস্থা অত্যন্ত বেহাল। আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে জলাশয়গুলো বেদখল হয়ে ভরাট হয়েছে। ড্রেন সংস্কারেরও উদ্যোগ নেই। ফলে ময়লা-আবর্জনা আটকে থাকায় স্বাভাবিক সময়েই পানি সরে না। তাই বৃষ্টি হলেই শহরের সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। তারা বলছেন, বেহাল ড্রেনেজের কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেও তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলাবদ্ধ হয়ে থাকতে হয়। তাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে। আর তার জন্য দুষছেন পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেই।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে রয়েছে। এসব সড়ক দিয়ে রিকশা, অটোরিকশার যাতায়াত করতে সমস্যা হচ্ছে। হাঁটুসমান পানির মধ্যেই অনেক রিকশা ও অটোরিকশার ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। শহরের নিউমার্কেট, আদালত চত্বরে, ডিসি অফিসের সামনে, ফুড অফিস মোড়, মিস্ত্রীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমেছে। সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের আদালতে আসতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। গ্রীনভিউ স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম নাজেহাল হতে দেখা গেছে একই কারণে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনেও হাঁটুপানি জমে যায়। এমন অবস্থার মধ্যেই যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ সব নাগরিককে।
আদালতের সামনে জলাবদ্ধতায় আটকে থাকা পথচারী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের প্রধান প্রধান সড়কে পানি জমে থাকে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এমন সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া শহরের রাস্তাগুলো ভাঙা। একদিকে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাঘাট বেহাল, অন্যদিকে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে থাকে হাঁটুপানি। এতে পৌরবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মিস্ত্রীপাড়ার বাসিন্দা সাংবাদিক তারেক রহমান বলেন, সোমবার সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। এতে বেশির ভাগ এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন কাজের জন্য যাতায়াত করতে পারছেন না। তাই পৌরসভার উচিত, দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল বলেন, ১২২ বছরের পুরানো একটি পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা এমন হবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ড্রেনেজ ব্যবস্থার পাশাপাশি এই শহরের রাস্তাও নাজুক। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ ছাড়া শহরের যত্রতত্র পড়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। এখানকার তৃতীয় শ্রেণির সড়কগুলো দেখলে আর বোঝার উপায় থাকে না যে এটি একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি জরিপ চলছে। কিছু ড্রেন সংস্কার এবং কিছু ড্রেন নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। এটি নিয়ে প্রকৌশল বিভাগ কাজ করছে।
পড়ুন : চাঁপাইনবাবগঞ্জ খাদ্য বিভাগে দুর্নীতির সিন্ডিকেটে দুই কর্মকর্তা


