লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। রক্ত পরিশোধন থেকে শুরু করে বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই এর ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু আধুনিক জীবনযাপনের অনিয়ম, অতিরিক্ত ফাস্টফুড, চিনি আর শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে ফ্যাটি লিভার এখন ভয়াবহ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এখন অনেকের অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধছে।
তবে ভয়ের কিছু নেই কারণ, খাদ্যাভ্যাস ঠিক করলে এই সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সম্প্রতি এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি, যিনি এআইআইএমএস, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ফ্যাটি লিভারে কোন খাবার উপকার করে আর কোনগুলো নিঃশব্দে ক্ষতি ডেকে আনে।
ফ্যাটি লিভারে উপকারী ও ক্ষতিকর খাবার
তেল
ভালো তেল: এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল
এই তেলে থাকা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লিভারে জমে থাকা চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
খারাপ তেল: বারবার গরম করা বীজজাত তেল
এই তেলগুলোতে উচ্চ তাপে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হয়, যা লিভারে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়াতে পারে।
স্ন্যাকস
ভালো স্ন্যাকস: বাদাম ও বীজ
আমন্ড, আখরোট, চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্সসিড এসব খাবারে আছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার ও প্রোটিন, যা লিভারের জন্য উপকারী।
খারাপ স্ন্যাকস: অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবার
যেসব খাবারের প্যাকেটে ১০টির বেশি উপাদান লেখা থাকে, সেগুলোতে সাধারণত অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর ফ্যাট থাকে—যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়।
কার্বোহাইড্রেট
ভালো কার্ব: সম্পূর্ণ শস্য
ওটস, বার্লি, মিলেট বা দেশি শস্যজাত খাবার রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।
খারাপ কার্ব: ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার
সাদা পাউরুটি, কেক, পেস্ট্রি—এসব খাবার দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ায় এবং লিভারে চর্বি জমাতে সহায়ক।
ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে আরও কিছু জরুরি অভ্যাস
- অল্প ওজন কমালেই লিভারে জমে থাকা চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে
- প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন ফল, শাকসবজি, লিন প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন, এটি লিভারকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে
- অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
- নিয়মিত হাঁটা, দৌড় বা হালকা ব্যায়াম করুন
- পর্যাপ্ত ঘুম (৭–৯ ঘণ্টা) বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখতে সহায়ক
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
ফ্যাটি লিভার এখন আর বিরল কোনও রোগ নয়, তবে এটিকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। সচেতন খাদ্যাভ্যাস আর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পারে লিভারকে আবার সুস্থ করে তোলে। তাই খাবার নির্বাচনের বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
পড়ুন: ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ মীমাংসার সুযোগ ছিল, কিন্তু দমননীতি নেন শেখ হাসিনা
দেখুন: এবারের নির্বাচন ঋণখেলাপিদের সংসদের বাইরে পাঠানোর নির্বাচন: হাসনাত আবদুল্লাহ
ইম/


