বিজ্ঞাপন

হাল ছাড়ছে না চীন, ‘কৌশলী’ হবে বাংলাদেশ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই) নিয়ে ২০২২ সালে বাংলাদেশকে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তখনকার সরকারের পক্ষ থেকে এটি বাস্তবায়িত হয়নি, যদিও চীন এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। চীন বাংলাদেশকে জিডিআইয়ের অংশ করার জন্য এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এবং আগামী ২৮ মার্চ (শুক্রবার) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিষয়টি সামনে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সফর করবেন এবং বৈঠকে বাংলাদেশের জিডিআই নিয়ে অবস্থান সম্পর্কে কিছু পরিবর্তন আনতে পারে। এর আগে, র পক্ষ থেকে প্রায় ১৫টি সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে জিডিআই অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে এখনই কোনো সমঝোতা স্মারক সই করতে রাজি নয়। তবে উভয় দেশ একটি যৌথ বিবৃতি দিতে পারে, যেখানে বাংলাদেশ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে বলে জানানো হবে।

জিডিআই, যা চীন প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ২০২১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ঘোষণা করেছিলেন,

একটি বৈশ্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা। এতে বিভিন্ন দেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য। এই উদ্যোগে বর্তমানে ৬০টিরও বেশি দেশ যোগ দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেনি, এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ জিডিআইতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি দেখছে না, তবে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সঙ্গে জিডিআই একটি সংলগ্ন উদ্যোগ, তবে বাংলাদেশ এতে চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই না করলেও এতে শামিল হতে পারেগ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ (জিএসআই) এড়িয়ে চলার পক্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।

আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ধীরে চলার মন্ত্রে বিশ্বাসী। ২০২২ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইউ বাংলাদেশের সফরে আসার সময়ও জিডিআই ও জিএসআই নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবে তখনও প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি।

উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশ এক চীন নীতির প্রতি তার পুরনো প্রতিশ্রুতিতে ফিরে আসুক। ২০০৫ সালে, তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়, বাংলাদেশ এক চীন নীতির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছিল এবং এবার সেই প্রতিশ্রুতির পুনঃপ্রতিবেদন করতে চায়। তবে বাংলাদেশ এই বিষয়ে কোন অবস্থান গ্রহণ করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যেখানে ৬ থেকে ৮টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে কাছ থেকে ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার ঘোষণা আসতে পারে এবং মোংলা বন্দরের উন্নয়নেও সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া, ড. ইউনূসপিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করবেন এবং সেখানে বক্তৃতা দেবেন।

এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ওসম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে, এবং আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত হতে পারে।

পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ করলে উভয়েই হেরে যাবে : প্রধানমন্ত্রী

দেখুন: ভারত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কৌশল কী? |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন