চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের হাসাদহে জামায়াত- বিএনপির সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াত আমিরের ভাই হাফিজুর রহমান (৪৫) মারা গেছেন। এবং ইউনিয়ন আমির মফিজুর রহমানের (৪২) অবস্থা আশঙ্কা জনক। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছে।
এই হত্যা কান্ড ঘটনার প্রতিবাদে আজ রবিবার (০১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টায় জীবননগরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত হাফিজুর রহমান জীবননগরের সুটিয়া গ্রামের ওহাব মিয়ার ছেলে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) সন্ধায় পূর্ব বিরোধের জেরে হাসাদহ বাজারে মাগরিবের নামাজের সময় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর ও জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখের নেতৃত্বে থানা-পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগের সঙ্গে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদীর পূর্ব থেকে দ্বন্দ্ব চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাতে হাসাদাহ বাজারে দুই পক্ষের বসার কথা ছিল। তবে সন্ধ্যার দিকে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, এর একপর্যায়ে জামায়াত নেতা ঈসরাইলের নেতৃত্বে বিএনপিকর্মী মেহেদীর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এসময় মেহেদীর মুখে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপ মারা হয়।
পরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাল্টা আক্রমনে জামায়াতের কয়েকজন আহত হন।
জামায়াতের আহতদের মধ্যে ছিলেন সুটিয়া গ্রামের মৃত ওহাবের ছেলে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান (৪০), ও তার ভাই হাফিজুর রহমান (৪৫), একই গ্রামের মৃত গোপাল মণ্ডলের ছেলে খায়রুল ইসলাম (৫০) ও হাপু। তাদের মধ্যে মফিজুর রহমান, মফিজুর রহমান ও হাপুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে যশোরে ও পরে ঢাকায় পাঠানো হয়।
অপরদিকে, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দিন ও তার ছেলে মেহেদী আহত হয়েছে।
ঢাকায় নেওয়ার পথে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াত আমিরের ভাই হাফিজুর রহমান (৪৫) রবিরাব রাত ১ টার দিকে মারা যায়। ইউনিয়ন আমির মফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কা জনক। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছে।
আহত বিএনপিকর্মী মেহেদী বলেন, আমি বাজার করতে গিয়েছিলাম। এসময় আমার আব্বা ফোন করে বলেন, জামায়াতের লোকজন বাড়িতে আক্রমণ করেছে। এসে দেখি আমার আব্বাকে মারধর করা হচ্ছে। এসময় ইসরাইল নেতৃত্বে সোহাগ এসে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আমার মুখে কোপ মারে। আমাদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
মেহেদীর পিতা বিএনপি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীন বলেন, আমি মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন ইসরাইল হুজুর বেশ কয়েকজনকে নিয়ে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে হামলা শুরু করে। আমি বলেছিলাম আগে কথা শোনো। কিন্তু তারা কিছু না শুনেই আমাকে মারধর করে। পরে সুটিয়ার এক ছেলে ও সোহাগ মারধর করে। এরপর আমার ছেলে এলে তাকেও মারধর করা হয়। তাদের হাতে রাম দা, হক স্টিক ও চাইনিজ কুড়াল ছিল।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দীন ময়ের বলেন, নির্বাচনের পর থেকে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর একের পর এক হামলা করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
হাসাদহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আখতারুজ্জামান শনিবার রাতে বলেন, হামলায় আহত জামায়াতের তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সম্ভবত তাদের ঢাকায় নেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের পর মামলা করা হবে।
অন্যদিকে রবিবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের এমপি ও জেলা জামায়াতের আমির মোঃ রুহুল আমিনের মিডিয়া সেলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মফিজ জোয়ার্দার সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির নৃশংস হামলায় মারত্নক আহত বাঁকা ইউনিয়ন আমির মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে যশোরে ও পরে ঢাকায় রেকর্ড করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে হাফিজুর রহমান মারা যান। বাকা ইউনিয়ন আমির মফিজুর রহমান বর্তমানে ঢাকা এভারকেয়ারের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছে। ইউনিয়ন আমিরের ভাইয়ের লাশ নিয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২ আসনের এমপি মহোদয় সকাল সাড় ৮ টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পৌঁছাবেন। ঐ সময় হাফিজুর রহমানের লাশের পোস্টমর্টেম করা হবে। চুয়াডাঙ্গা সাংবাদিক ভাইদের উপস্থিত থাকার জন্য চুয়াডাঙ্গা -২ আসনের এমপি জনাব রুহুল আমিন অনুরোধ করেছেন বলেও জানানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, হাসাদহে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে।
এঘটনায় হাফিজুর রহমান নামে আহত এক জামায়াতকর্মী মারাগেছে বলে জানতে পেরেছি। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মাঠে রয়েছে। এবিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন- যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি ঘাঁটিতে হামলা করা হয়েছে : ইরান রেভোল্যুশনারি গার্ড


