19 C
Dhaka
০৪/০৩/২০২৬, ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসি

চুয়াডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘটিত দুটি আলোচিত হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ মো. আকবর আলী শেখ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর আসামিদের পুলিশি পাহারায় কোর্ট হেফাজতে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—জীবননগর উপজেলার গঙ্গাদাসপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম মণ্ডলের ছেলে জমির উদ্দীন (৫০), আলমডাঙ্গা উপজেলার বামানগর গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে স্বাধীন আলী (৪০) এবং চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের ফার্মপাড়ার মৃত বিপ্লব হোসেনের ছেলে আশিকুর রহমান ওরফে বাদশা (৩৮)।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৯ মে রাতে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে জেহালা গ্রামের কামাল হোসেনকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান স্বাধীন আলী ও তার সহযোগীরা। স্থানীয়ভাবে বিরোধ থাকায় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

আহত অবস্থায় তাকে পার্শ্ববর্তী ক্লিনিকে নেওয়া হলে তিনি স্ত্রীকে জানান, স্বাধীন, আশিকসহ আরও কয়েকজন মিলে তাকে কুপিয়েছে। এরপর অবস্থার অবনতি হলে কামালকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার দুদিন পর নিহতের স্ত্রী সেলিনা আক্তার ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওসি আকরামুল হোসাইন সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার বিচার চলাকালে ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় স্বাধীন আলী ও আশিকুর রহমানকে আদালত মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। মামলার অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২২ সালের ১৬ জুন সকালে জীবননগরের গঙ্গাদাসপুর গ্রামে ফজলুর চায়ের দোকানের সামনে পূর্ব বিরোধের জেরে কোদাল দিয়ে মাথায় আঘাত করে বাবলু রহমানকে হত্যা করেন প্রতিবেশী জমির উদ্দীন। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় বাবলুকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই নিহতের স্ত্রী চায়না খাতুন জমির উদ্দীনকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে এসআই সৈকত পাড়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক জমির উদ্দীনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবু বলেন, “দুটি মামলায় আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

পড়ুন: জীবননগরে ওয়ান শুটার গান ও গুলি উদ্ধার

দেখুন: ‘জুলাই পরিস্থিতি উত্তরণে সময় দিতে হবে’ |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন