২৮/০২/২০২৬, ২৩:০৭ অপরাহ্ণ
22.6 C
Dhaka
২৮/০২/২০২৬, ২৩:০৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

চুয়াডাঙ্গায় জিকে ক্যানেলের পানি নেওয়া হচ্ছে পুকুরে, কৃষি জমির ফসলের ক্ষতি হওয়ায় চাষীদের ক্ষোভ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাড়োকান্দি-বলেশ্বরপুর এলাকায় জিকে ক্যানেলের সেচের পানি ফসলের ক্ষতি করে নেওয়া হচ্ছে পুকুরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়মিত বিধাবতি শেষ কর দিয়ে থাকিআমাদের ধান ভুট্টা, আলু,গম,তামাক সহ মৌসুমী ফসলের জমিতে পানি সরবরাহের জন্য। কিন্তু অসাধু মৎস্য চাষিরা ধান ভোটটা গমের ক্ষতি করে তার ব্যক্তিগত পুকুরে সেচের পানি ভর্তি করছেন।

ভুক্তভোগী কয়েকজন কৃষকের মধ্যে আব্দুল হামিদ, আশরাফ আলী ও দুলাল মন্ডল বলেন, আমরা আমাদের কৃষিজমির বিঘাপতি সরকারকে সেচ কর প্রদান করি শুধুমাত্র আমাদের কৃষিজাত ধান, গম, ভুট্টা, আলু সহ মৌসুমী ফসলের জন্য। কিন্তু আমাদের এলাকার একশ্রেণীর অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা এসব ফসলের ক্ষতি করে নিজের ব্যক্তিগত পুকুরে পানি ভর্তি করছেন। এমনিতেই এ বছর আলু সহ অন্যান্য সবজির দাম কম থাকায় আমাদের মাথায় হাত উঠে গেছে। এরপর যে অবশিষ্ট আলু, গম ও ভুট্টা চাষ আমরা করে থাকি সে জমিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পানি ঢুকে পড়ে আমাদের মৌসুমী ফসল ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

আশরাফ আলী নামের এ কৃষক আরও অভিযোগ করে বলেন, আমার এক বিঘা বীজ আলু পানিতে পৌঁছে নষ্ট হয়ে গেছে। এই দুর্মূল্যের বাজারে আলুর মৌসুমে আমি কিভাবে বীজ আলু কিভাবে ক্রয় করবো। আমরা এর ক্ষতিপূরণ চাই।

ভুক্তভোগী কৃষকরা তাদের এলাকার কবীর হোসেন ও কামরুজ্জামান রুম্মন নামের দুইজন মৎস্য চাষীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তবে এবিষয়ে একজন মৎস্য চাষীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বাড়িতে যেয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। আর কবীর হোসেনের মোবাইল ফোন নাম্বারেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মাছ চাষী কামরুজ্জামান রুম্মন বলেন, আমিও তো আমার ধানী জমির বিঘাপতি সেচকর প্রদান করে থাকি। আমরা মাছে- ভাতে বাঙালি ধানসহ অন্যান্য মৌসুমী ফসলের পাশা-পাশি মৎস্য চাষিরাও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন। আমি কেন মাছ চাষের জন্য আমার পুকুরে পানি নিতে পারবোনা।

এবিষয়ে আউটসোর্সিং-এ কর্মরত সেচ কর আদায়কারী জিয়াউদ্দিন বলেন, গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের আওতায় যে পানি (জিকে) ক্যানেলের মাধ্যমে কৃষকের জমিতে আসে। সেই পানি (ইরিগেশন) ধান সহ মৌসুমী ফসলের চাহিদা পুরণ শেষে অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই কৃষকের ফসলের ক্ষতি না করে সে পানি ব্যবহার করতে হবে।

এবিষয়ে (ব্লক সুপারভাইজার) উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রজনী আফরোজ বলেন, জিকে প্রকল্পের সেচের পানি শুধুমাত্র কৃষকের চাষাবাদের জন্যই ব্যবহার করা যাবে। যদি কেউ পুকুর ভর্তি বা অন্য কাজে ব্যবহার করে সে বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহাম্মেদ বলেন, কৃষি জমির সেচ কাজের জন্যই জিকে প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। মূলত ইরিগেশনের জন্যই তা নির্দ্দেশিত। এটি কারোর পুকুরে মাছ চাষ করার জন্য নয়। যদি কেউ পুকুরে এ সেচ কাজের পানি ভর্তি করেন সেটি বৈধ হবে না।

চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদ আহমেদ সরকার এ বিষয়ে বলেন,

জিকে প্রকল্পের সেচের পানি কৃষক ও কৃষি কাজের জন্যই ব্যবহার করতে হবে। কৃষকের ক্ষতি করে সেই পানি অন্য কাজে কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। যদি কেউ অন্য কাজে সে পানি ব্যবহার করতে চাই, সেক্ষেত্রে চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের যথাযথ অনুমতি নিয়েই করতে হবে। তবে ফার্স্ট প্রায়োরিটি কৃষকেরই থাকবে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সরেজমিনে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় নারী দিবসে মহিলা দলের ইফতার মাহফিল

দেখুন: নতুন পদ্ধতিতে চুয়াডাঙ্গায় গরমকালেও পেঁয়াজ চাষ 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন