২৮/০২/২০২৬, ২৩:০৭ অপরাহ্ণ
22.6 C
Dhaka
২৮/০২/২০২৬, ২৩:০৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

চুয়াডাঙ্গায় ফিলিস্তিনের পক্ষে জনসাধারণের বিক্ষোভ, ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে একাধিক কর্মসূচি

চুয়াডাঙ্গায় ফিলিস্তিনের নিরীহ মানুষের ওপর ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও পেশাজীবী সংগঠনের ব্যানারে গতকাল দিনব্যাপী বিক্ষোভ-মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রথমে বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের শহিদ হাসান চত্বর থেকে ‘চুয়াডাঙ্গার সকল সচেতন ও বিবেকবান জনগণ’-এর ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে সাধারণ মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। তারা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানান এবং ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দেন।

মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কসমূহ ঘুরে আবার শহিদ হাসান চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত এখনই শক্ত অবস্থান নেওয়া।” বক্তারা মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ডাক দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল ইকবাল, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি এস এম ফাহিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আসলাম হোসেনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

একই দিন বিকেলে জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। সরকারি কলেজের মুক্তমঞ্চ থেকে মিছিলটি বের হয়ে কোর্ট রোড, বড়বাজার, কবরী রোড হয়ে পুনরায় মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা আমির অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন। তিনি বলেন, “সারা বিশ্বের মুসলমানরা একত্র হলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব ধ্বংস হতে বেশি সময় লাগবে না। আজ বিশ্ববাসী গাজার শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের আর্তনাদ উপেক্ষা করছে—এটা মানবতা ও বিবেকের পরাজয়।”

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা, ইসলামী যুব আন্দোলন, জেলা উলামা পরিষদ ও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়। বিকেলে থানা মসজিদসংলগ্ন মুক্তমঞ্চ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহিদ হাসান চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন উলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি জুনাইদ আল হাবিবী, সেক্রেটারি মুফতি মোস্তফা কামাল কাসেমী, ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি হাসানুজ্জামান সজিব, সহসভাপতি মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী প্রমুখ। বক্তারা বলেন, “ইসরায়েল আজ রাফাহ ও গাজা উপত্যকায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। শিশুদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। এই বর্বরতার বিরুদ্ধে আমরা চুপ থাকতে পারি না।”

দিনের শেষাংশে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় চিকিৎসক সংগঠন ‘ন্যাশনাল ডক্টর্স ফোরাম (এনডিএফ)’-এর প্রতিবাদ কর্মসূচি। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা সভাপতি ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলন ও সাধারণ সম্পাদক ডা. রোকনুজ্জামান।

এছাড়াও বক্তব্য দেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামান মালিক খোকন, ডা. ফাতিমা হকসহ চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, “গাজায় চলমান হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশ্ববাসীর উচিত অবিলম্বে এই সহিংসতা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।

পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় ইজিবাইক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫

দেখুন: নতুন পদ্ধতিতে চুয়াডাঙ্গায় গরমকালেও পেঁয়াজ চাষ | 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন