নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় গরু চোরাচালান ও অবৈধ লেনদেন বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা। এ সময় পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে থানা পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং রাতভর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ৩৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চত করেন কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল রংছাতি ইউনিয়নের তেরোতোফা গ্রামের সারফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে ভারতীয় গরু চোরাচালান ও বিপুল অঙ্কের অবৈধ লেনদেনের তথ্য ছিল।
অভিযান শুরু হতেই স্থানীয় চোরাকারবারিরা জড়ো হয়ে ডিবি সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং একপর্যায়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। হামলায় এসআই আব্দুল জলিল, এসআই শওকত আলী, এএসআই আবুল কালামসহ কয়েকজন ডিবি সদস্য আহত হন। এছাড়া সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া এক স্থানীয় সাংবাদিকও হামলার শিকার হন। খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের নিরাপদে উদ্ধার করে।
হামলার পর রাতেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ও চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়। জব্দকৃত তালিকার মধ্যে রয়েছে- নগদ ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা, পাঁচটি ভারতীয় গরু, পাঁচ বোতল ভারতীয় মদ ও ২০ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল।
ওসি মো. সিদ্দিক হোসেন জানান, ডিবি পুলিশের ওপর হামলা ও চোরাচালানের ঘটনায় তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ১৫ জনকে ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন: মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগে আইনি নোটিশ
আর/


