রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মারধর, ছিনতাই ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে মতিঝিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ফকিরাপুল সংলগ্ন এলাকায় ভুক্তভোগী সাজু আহমেদ তার সহপাঠী মুনতাসির নাবিল সংগ্রামকে সঙ্গে নিয়ে টিউশনে যাচ্ছিলেন। এ সময় নাদিম (২৪) ও আরিফ (২৫)-এর নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল তাদের গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় এর আগেও এদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা প্রথমে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করে তাদের মাটিতে ফেলে দেয়। পরে হেলমেটসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে আঘাত করলে তারা গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে তাদের জিম্মি করে রাখা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এটিএন বাংলার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার শাহরিয়ার জামিল নূর ও সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান শিশির। এ সময় তাদের উপরও অতর্কিত হামলা করে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে পুনরায় ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবারও আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ সময় হামলাকারীরা লোহার রড, হকিস্টিক ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে মারধর করে। এতে সাজু আহমেদসহ অন্যরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা একটি ডিজিটাল মাইক্রোফোন, নেকব্যান্ড, হাতঘড়ি, নগদ ১৪ হাজার ৮০০ টাকা এবং একটি স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি থানায় অভিযোগ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাজু আহমেদ মতিঝিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে মতিঝিল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন:আজ শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি
দেখুন:কেন পাকিস্তানে গেলেন বিসিবি সভাপতি?
ইমি/


