বিজ্ঞাপন

ছাদকেন্দ্রিক সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণার দাবি

টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিদ্যুৎখাতে বৈপ্লবিক রূপান্তরের লক্ষ্যে ছাদকেন্দ্রিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) প্রযুক্তিকে দ্রুত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণার দাবি উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।

বিজ্ঞাপন

জাবারাং কল্যাণ সমিতি, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড) রাঙ্গামাটি, ক্লিন, বিডব্লিউজিইডি এবং স্থানীয় কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মসমূহের যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে উন্নয়নকর্মী পূর্ণা চাকমা’র সঞ্চালনা ও প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড) রাঙামাটির সভাপতি মুজিবুল হক বুলবুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিশির চাকমা, আনন্দ জ্যোতি চাকমা, জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) রাঙামাটি জেলা সমন্বয়কারী বেনজিন চাকমা, ফেড রাঙামাটির সাধারণ সম্পাদক নুকু চাকমা, সদস্য কবি মুকুল কান্তি ত্রিপুরা, প্রকৌশলী গঙ্গা বিজয় চাকমা, জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বিনোদন ত্রিপুরাসহ আরও অনেকে।

এসময় বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্রিয় সমর্থন ও সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। বর্তমানে দেশের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ ছাদ কোনো কাজে আসছে না। সেখানে পরিকল্পিতভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করলে একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডের ওপর লোড-শেডিংয়ের চাপ কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা হ্রাসের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।

মানববন্ধনে কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিশির চাকমা বলেন, দেশের বিদ্যুৎখাতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে রুফটপ সোলার একটি পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য এবং অত্যন্ত কম ব্যয়বহুল সমাধান হওয়া সত্ত্বেও এটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।

জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, জ্বালানির এই রূপান্তর কেবল পরিবেশই রক্ষা করবে না বরং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ টেকনেশিয়ান ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের বিশাল বাজার সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে নারী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা একটি সাশ্রয়ী ও ন্যায্য জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে মুজিবুল হক বুলবুল বলেন, নতুন সরকারের কাছে জনগণের অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা আছে। স্থানীয় সরকার ও জনগণকে সম্পৃক্ত করেই সকল ধরণের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারলে তা টেকসই হবে। সারাদেশব্যাপী যেন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি তা করা হয়, তাহলে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ থেকে রেহাই পাবে।

কর্মসূচি শেষে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক ও পৌর প্রশাসকের কাছে ৫ দফা দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। দাবিসমূহ হলো- স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে (ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন) রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট নীতিগত ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে; প্রতিটি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনের ছাদে বাধ্যতামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে; সাধারণ মানুষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি ভর্তুকি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার গ্যারান্টি দিতে হবে; জ্বালানি রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে; এবং পরিবেশ ধ্বংসকারী জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ গ্রহণ করতে হবে।

পড়ুন- রমজানেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন