22.7 C
Dhaka
০৩/০৩/২০২৬, ০:২৭ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ছেলের জীবন বাঁচাতে মায়ের কিডনি দান, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী

মৃত্যু যখন নিশ্চিত ভেবে দিন গুনছিলেন, ঠিক তখনই অন্ধকার জীবনে আলোর দিশারি হয়ে এলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার সার্বিক সহযোগিতা এবং জন্মদাত্রী মায়ের কিডনি দানে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এলেন নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সন্তান কৃষ্ণ হাজং।

সোমবার (২ মার্চ) ঢাকার পিজি হাসপাতালে সফলভাবে তার কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।

কৃষ্ণ হাজং নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী, এক কন্যা এবং বৃদ্ধ বাবা-মা। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগে একপর্যায়ে জানতে পারেন তার দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ অকেজো। প্রথমে ময়মনসিংহ এবং পরে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে পরিবারটি। অর্থাভাবে ডায়ালিসিস বন্ধ হয়ে গেলে গত মে মাসের শেষের দিকে একপ্রকার মৃত্যুর প্রহর গুনতে বাড়িতে ফিরে আসেন কৃষ্ণ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি শয্যাশায়ী হওয়ায় চরম অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটতে শুরু করে তাঁদের।

অসহায় কৃষ্ণ হাজংয়ের নিভু নিভু জীবনের কথা জানতে পেরে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে পুনরায় শুরু হয় কৃষ্ণের চিকিৎসা। প্রথমে ময়মনসিংহ এবং পরে সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে গত ১৮ জুন থেকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে শুরু হয় তার ডায়ালিসিস ও উন্নত চিকিৎসা। চিকিৎসকরা জানান, কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া কৃষ্ণকে বাঁচানোর আর কোনো উপায় নেই।

বিপুল খরচের কথা শুনেও হাল ছাড়েননি প্রতিমন্ত্রী। নিজের কাঁধেই তুলে নেন চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার। অন্যদিকে, কলিজার টুকরো সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কৃষ্ণের গর্ভধারিণী মা। দীর্ঘ আট মাস ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিবিড় চিকিৎসার পর আজ (সোমবার) ধার্য হয় কিডনি প্রতিস্থাপনের তারিখ। দীর্ঘ সময়ের সফল অস্ত্রোপচার শেষে মায়ের দেওয়া কিডনিতে নতুন জীবন লাভ করেন কৃষ্ণ হাজং। এই পুরো প্রক্রিয়ার সার্বিক তদারকি ও সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

মানবিক এই উদ্যোগ সফল হওয়ার পর মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “বিএনপি মাটি ও মানুষের দল। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমি কৃষ্ণ হাজংয়ের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং প্রতিনিয়ত তাঁর চিকিৎসার অগ্রগতির খোঁজ-খবর রেখেছি। আল্লাহর রহমতে সবকিছু ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে তিনি আরও বলেন, “সবার কাছে অনুরোধ, আসুন আমরা প্রার্থনা করি- কৃষ্ণ হাজং যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে তাঁর পরিবারের হাল ধরতে পারে।”

প্রতিমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগ ও মায়ের ভালোবাসার এমন দৃষ্টান্তে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে কৃষ্ণের পরিবারে ফিরে এসেছে স্বস্তির হাসি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নেত্রকোনায় ‘জামতালা-শিমুলকান্দি’ সড়ক সংস্কার: নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন