নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনাকে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন এস আলম— এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে কাজী জাফর আহমেদের দশম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেছেন, শুধু শেখ হাসিনাই নয়, কিছু রাজনৈতিক মহলও নিত্যনতুন দাবি আদায়ের নামে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। সরকারের ভেতরে একটা মহল অত্যন্ত সচেতনভাবে চেষ্টা করছে গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে। এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে নির্বাচনের বিকল্প নেই।
এজন্য জুলাই সনদ সংস্কারের কাজে জটিলতা সৃষ্টি না করে দ্রুত শেষ করার তাগিদও দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব। প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে বলেছেন মির্জা ফখরুল।
মির্জা ফখরুল বলেন, এখন কেমন যেনো হতাশার ছায়া ঘোরাঘুরি করছে। বেশিরভাগ মানুষ নষ্ট হয়ে গেছে, দুর্নীতি আর দুর্নীতি। যেদিকে তাকাবেন সেখানেই দুর্নীতি। দুঃখজনক রাজনৈতিক নেতারা জড়িত হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, ৭১ ভোলানোর চেষ্টা চলছে, যা ভোলানো সম্ভব নয়। অনেক নির্যাতন হয়েছে সেসময়। যারা সেদিন পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছে তারাই এখন বড়বড় কথা বলছে। তাই অনেক বেশি সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। লক্ষ্য অর্জনে সজাগ থাকতে হবে। অর্জন করে ফেলেছি ভাবলে বিরাট ভুল হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের ভেতরে একটি মহল অত্যন্ত সচেতনভাবে চেষ্টা করছে গণতান্ত্রিক শক্তি যেনো ক্ষমতায় আসতে না পারে। সে চেষ্টা আছে। সরকারের কর্মকর্তাদের নিউইয়র্কে হামলা করছে। এমন হলে কেমন হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, এক বছরের মধ্যে অনেক পরিবর্তন সম্ভব ছিল। তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন করলে নির্বাচিত সরকার আসতো। এখনও সময় আছে, জটিলতা তৈরি না করে সংস্কারসহ অন্যান্য কাজগুলো দ্রুত করুন। ঘোষিত সময়ে নির্বাচন নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিবের পেছনে পাগলের মত সবাই ছুটেছিলাম, মওলানা ভাসানি পেছনে পড়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু জাতির সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
পড়ুন : রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনার তর্কবিতর্ক হতাশা তৈরি করেছে : মির্জা ফখরুল


