দুই দেশের সীমান্তবর্তী একমাত্র উপজেলা রাঙামাটির বিলাইছড়ি। জেলার দুর্গম এই উপজেলার একদিকে ভারতের মিজোরাম, অন্যদিকে মিয়ানমারের চিন প্রদেশ। পুরো উপজেলাবাসীর চিকিৎসাসেবা গ্রহণের একমাত্র গন্তব্য বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বর্তমানে চিকিৎসক, নার্স ও জনবল সংকটে ভুগছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
এরমধ্যে চিকিৎসক রয়েছেন কেবল ২ জন। এছাড়া ৪ জন নার্স, ১ জন টেকনিশিয়ান, ২ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী দিয়েই চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা কার্যক্রম। অপ্রতুল জনবলের কারণে রোগীরাও পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেবা। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে রাঙামাটির দুর্গম সীমান্তবর্তী বিলাইছড়ি উপজেলা সদরে ১০ শয্যাবিশিষ্ট টিনশেডের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মিত হয়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যায় উন্নীত করা হয়ে। এরপর ২০১৮ সালে নতুন ৩ তলা ভবন নির্মাণের পর ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উনীত হয়। উপজেলার চার ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজারের অধিক মানুষের একমাত্র ভরসা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন (সিএস) কার্যালয়ের তথ্যমতে, বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল কাঠামো অনুযায়ী কনসালটেন্ট, গাইনি, মেডিসিন, সার্জারিসহ ৯টি চিকিৎসক পদ রয়েছে। এরমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রয়েছেন একজন। তিনিও অফিসিয়াল বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। কর্মরত রয়েছেন ২ জন চিকিৎসক। এছাড়া ২৭টি নার্স পদে কর্মরত রয়েছেন ৪ জন মাত্র। ৮ জন ল্যাব টেকনিশিয়ানের মধ্যে মাত্র ১ জন কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া হিসাবরক্ষক, পরিসংখ্যানবিদ, আয়া, স্টোরকিপারের পদও শূন্য।
দুর্গম উপজেলাটিতে আধুনিকভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামো গড়ে উঠলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী। উপজেলার পুরিহলা মোনের বাসিন্দা শশ্বধর চাকমা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। তাছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে নার্স, টেকনিসিয়ান ওয়ার্ড বয়সহ অন্যান্য জনবল নেই। হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় আমাদের রাঙামাটি সদরে ও চট্টগ্রামে যেতে হয়। ফলে এলাকার যারা সাধারণ রোগী রয়েছে তাদের আর্থিক সংকটে পড়তে হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির পরিচ্ছন্নতা কর্মী রত্না তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও আয়াসহ ১৫ জন থাকার কথা। বর্তমানে শুধু পরিচ্ছন্নতা কর্মী আমিসহ দুই জন রয়েছি। অন্য পদগুলো খালি রয়েছে। সিনিয়র নার্স ইশিতা চাকমা জানান, চারজন নার্স মিলে হাসপাতাল সামলাতে হয়। এর মধ্যে একজন নার্স মাতৃকালীন ছুটিতে যাবেন। মাত্র তিন জন নার্স থাকব। প্রতিদিন রোগীর চাপ থাকে।
বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক ডা. উম্মে সাইকা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। মাত্র দুইজন চিকিৎসক দিয়ে এত বড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাঙামাটির সিভিল সার্জন (সিএস) ডা. নূয়েন খীসা জানান, রাঙামাটি জেলায় এমনিতে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। তার মধ্যে বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র দুই জন চিকিৎসক রয়েছেন। পাশাপাশি নার্সের সংকটও রয়েছে। চারজন নার্স রয়েছেন। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই এই সংকট কেটে যাবে।
পড়ুন: রাঙামাটিতে এনসিপির শ্রমিক উইংয়ের যাত্রা শুরু
এস/


