গৃহকর্মীকে পৈশাচিক নির্যাতনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
অন্যদিকে, মামলার অন্যতম আসামি গৃহকর্মী মোছা. সুফিয়া বেগম আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গৃহকর্মীকে পৈশাচিক নির্যাতনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
অন্যদিকে, মামলার অন্যতম আসামি গৃহকর্মী মোছা. সুফিয়া বেগম আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত সাফিকুর রহমানের পাঁচ দিন এবং সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। রিমান্ড শেষে আজ তাদের ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুফিয়া বেগম স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে সাবেক এমডি সাফিকুর রহমান কোনো জবানবন্দি দেননি; শুনানি শেষে বিচারক তাকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার এই মামলার অপর আসামি গৃহকর্মী রুপালী খাতুনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের জুন মাসে এক হোটেল কর্মচারী তার ১১ বছর বয়সি মেয়েকে সাফিকুর রহমানের উত্তরার বাসায় কাজে দেন। গত ২ নভেম্বর তিনি মেয়েকে সুস্থ দেখে এলেও, ৩১ জানুয়ারি সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বীথি ফোন করে জানান শিশুটি অসুস্থ। সেদিন সন্ধ্যায় মেয়েকে বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শিশুর বাবা অভিযোগে জানান, হস্তান্তরের সময় তিনি দেখেন মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম এবং সে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিল না। পরে মেয়েটি জানায়, সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথিসহ অন্য আসামিরা তাকে অকারণে মারধর করতেন এবং গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছেঁকা দিতেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়েরের পর ২ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৫ ফেব্রুয়ারি সরকার সাফিকুর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে। বর্তমানে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি এবং দুই গৃহকর্মীসহ মামলার সব প্রধান আসামিই কারাগারে রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

