জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) কার্যালয়ে হামলা ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। গতকাল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত সাংবাদিক সমিতির কক্ষে ঢুকে এ হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও শাখা ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদল একে অপরকে দোষারোপ করছে। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এ হামলার জন্য শিবিরকে দায়ী করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাকিব লিখেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ভবনে জকসুর জিএস এবং শিবিরের নেতা-কর্মীদের নেতৃত্বে সাংবাদিক সমিতি দখলের চেষ্টার ঘটনাটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-শিবিরের অনৈতিক সহায়তা ভোগের অভিযোগ প্রমাণিত হলো।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ও শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ফেসবুকের এক স্ট্যাটাসে লিখছেন, সাংবাদিক সমিতিতে বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে জকসুর জিএস শিক্ষার্থীদের উদ্ধার ও পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য ওপরে যান। সেখানে জকসু জিএস উপস্থিত হয়ে সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং জিএস-এর ওপর হামলা চালান।
হামলার ঘটনায় আহতরা হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রঅধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিব, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান নাজিদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. মিলন হোসেন, জনকণ্ঠের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ওমর ফারুক, দৈনিক যায়যায়দিনের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মিজান উদ্দিন মাসুদ, প্রথম আলোর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন, দৈনিক বর্তমানের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. আরিফুল ইসলাম, দৈনিক তরুণকণ্ঠের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আবিধ হাসান বাঁধন, ব্রেকিং নিউজ ডটকমের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. ইয়াসিন সাইফ, বাংলাদেশ গার্ডিয়ানের হাবিবুর রহমান, রুপালি বাংলাদেশের নাফিজ উদ্দিন, রেডিও টুডের আবুল হাসনাত।
আহত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান নাজিদ বলেন, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনে আমাদের প্রায় ৩৫ জন সাংবাদিককে বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ করে মনোনয়ন বিক্রি করছিল। এ সময় আমরা জিজ্ঞেস করলে তারা আমাদের ওপর হামলা করে। হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদক ও জকসুর জিএস আবদুল আলিম আরিফ এবং ছাত্রশিবির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জকসুর শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল হামলার নেতৃত্ব দেন। তারা স্ট্যাম্প ও লাঠি দিয়ে হামলা চালান। অতর্কিত হামলায় আমরা আহত হই।
পড়ুন- ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের গোপন কৌশল করছে যুক্তরাষ্ট্র
দেখুন- কুয়েত প্রবাসীদের যে বার্তা দিলেন বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত


