বিজ্ঞাপন

জয়পুরহাটে মাদকবিরোধী ১৯৩ অভিযান: ৭১ মামলা, গ্রেপ্তার ৬৯

জয়পুরহাটে গত এক মাসে ১৯৩টি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এসব অভিযানে ৭১টি মামলা দায়েরসহ ৬৯ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৫ জন আসামি পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের সহকারী পরিচালক শাকিল আহম্মেদ এর স্বাক্ষরিত এক তথ্য বিবরণীর মাধ্যমে এসব পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, গত মার্চ মাসে জেলাজুড়ে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে- ৭৮২ পিস টাপেন্টাডল, ৯৩ দশমিক ৯৯ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার এ্যাম্পুল ইনজেকশন, ১ কেজি ৮৫০ গ্রাম গাঁজা, ২৮ লিটার চোলাই মদ এবং ৪ পিস ইয়াবা। এছাড়া নগদ ২ হাজার ২৫০ টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

শুধু অভিযানই নয়, মাদক প্রতিরোধে মাসজুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ৩৩টি পথসভা, ২৭টি মাদকবিরোধী বক্তব্য প্রদান, ৩টি সেমিনার ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে ৪ হাজার ৮০০টি লিফলেট বিতরণ করা হয়।

এদিকে, মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে জেলার ৯টি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা চলমান রয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে মোট শয্যা সংখ্যা ৯০টি হলেও রোগীর চাপ রয়েছে। গত মাসের অবশিষ্ট ১৩৬ জন রোগীর সঙ্গে নতুন করে ৫৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। সুস্থ হওয়ায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫০ জন। বর্তমানে মোট চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৪৫ জন। এছাড়াও ৯১ জন ফলোআপ রোগী এবং ১০২ জনকে কাউন্সিলিং সেবা প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে, ২০২৫ সালে জেলাজুড়ে মোট ১ হাজার ৪০০টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে ৬১১টি মামলা দায়েরসহ ৬২১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বছরজুড়ে উদ্ধারকৃত মাদকের তালিকাটিও বেশ দীর্ঘ। এর মধ্যে ছিল- ১৮ কেজি ২০১ গ্রাম গাঁজা, ৬ হাজার ৪৯৮ পিস ইয়াবা, ১৭ হাজার ২৬৫ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৭৬ বোতল ফেনসিডিল, ৫৪ দশমিক ৫৫ লিটার চোলাই মদ, ১০৮ লিটার ওয়াশ, ৩ হাজার ২৭৪ এ্যাম্পুল ইনজেকশন, ১৫ দশমিক ৭৫ গ্রাম হেরোইন এবং ৭৫০ মিলি লিটার বিলাতি মদ। এছাড়াও মাদক পরিবহণ ও বিক্রির কাজে ব্যবহৃত ৬টি মোটরসাইকেল, ২টি অটোভ্যান, ৪টি মোবাইল ফোন, ২৪৬ গ্রাম ফেনসিডিল তৈরির উপকরণ, একটি হ্যান্ডকাপ, ছোট-বড় ২ জোড়া শিকল এবং নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬৯ টাকা জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের সহকারী পরিচালক শাকিল আহম্মেদ বলেন, মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি আমরা ব্যাপক গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছি। নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে রোগীরা যেন যথাযথ সেবা পায়, সে বিষয়েও নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে সমাজ থেকে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করতে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

পড়ুন- দেশের সবচেয়ে বড় সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা

দেখুন- ‘ফাংশনাল প্রধানমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন