জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ১৯০ বস্তা ডিএপি সার জব্দের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতে থানায় বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস। এরআগে এদিন দুপুর ২টায় জয়পুরহাট-পাঁচবিবি সড়কের জিয়ার মোড় ও তিনমাথা এলাকার গুদাম থেকে সারগুলো জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বিষয়টি নিশ্চিত করে পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুল ইসলাম বলেন, বাইরে পাচারে সময় সারগুলো জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আসামি পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করতে পরেননি পুলিশ। সেইসাথে সারবাহী গাড়িগুলো আটক করেনি সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে পাঁচবিবি উপজেলা সদর তিনমাথা মোড়ের সবুজ কৃষি ভান্ডারের গুদাম থেকে ছয়টি ইজিবাইকে ১২০ বস্তা ডিএপি সার নিয়ে নওগাঁর ধামইরহাটের নানাইচ বাজারের একটি দোকানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অবৈধভাবে সারগুলো পাচার হচ্ছিল এমন গোয়েন্দা সংবাদ পেয়ে জিয়ার মোড় নামক এলাকায় অভিযান চালিয়ে সারের বস্তাগুলো জব্দ করা হয়। পরে তিনমাথা এলাকার ওই গুদাম ঘরে অভিযান চালিয়ে আরও ৭০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মোট ১৯০ বস্তা সার থানায় জমা দেওয়া হয়।
এরমধ্যে অভিযুক্ত সার ডিলার বিষুপদ দাসকে রক্ষা করতে একটি চক্র তৎপরতা শুরু করে। গণমাধ্যমকর্মীরা জানাজানির পর চক্রটি সেই তৎপরতা ভেস্তে যায়। এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তিন মাথা মোড়ের বিষুপদ দাস তার ভাড়া গুদামে ডিএপি সার অবৈধভাবে মজুদ করে রেখেছেন। আসামি বিষুপদ দাস অভিযানের কথা টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যান। বিষুপদ দাস অবৈধভাবে সার মজুদ করে কালো বাজারি করে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (১) ধারার অপরাধ করেছেন।
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, বিসিআইসির ডিলার বিষুপদ দাসের গুদাম ঘর থেকে ডিএপি সারগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। নিজ উপজেলার বাইরে সার বিক্রির নিয়ম নেই। ডিলারের এ সার বরাদ্দও ছিল না। এগুলো বরাদ্দ বহিভূত সার। তাছাড়া সারের বস্তাগুলো ২০২২ সালে প্যাকেজিং করা।
পড়ুন : http://জয়পুরহাটে নাগরিক ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা


