সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা গ্রহণে অস্বীকৃতি ও বাধা প্রদান করায় জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক দাবী বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মু. মাহবুবর রহমানকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জেছের আলী স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয়েছে। আগামী ০৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠন ৩ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে গত ৭/১১/২০২৫ খ্রি. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচীর ঘোষণা দেন। ঘোষণা অনুযায়ী আপনি ও অন্যান্য শিক্ষকগণ ৭/১১/২০২৫ হতে ১০/১১/২০২৫ তারিখ পর্যন্ত শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হয় এবং প্রস্তাবিত দাবীসমূহের আলোকে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর জন্য গত ১০/১১/২০২৫ তারিখে অর্থ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ আপনিসহ সহকারী শিক্ষকদের সংগঠন সমূহের নেতৃবৃন্দের সাথে সচিবালয়ে বৈঠক করেন এবং দাবী পূরণের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টার আশ্বাস দেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে একটি সরকারি প্রেসবিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়। ফলশ্রুতিতে গৃহীত আন্দোলন কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
পরবর্তীতে আপনিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উত্থাপিত দাবী পূরণ করে সরকারকে অনতিবিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারির জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য ও উসকানিমূলক ভিডিও প্রকাশ করতে থাকেন। আপনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দকে ০১/১২/২০২৫ তারিখে শুরু হওয়া তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহবান জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও বক্তব্যসমূহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নজরে আসে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আপনিসহ শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাথে কয়েকদফা আলোচনায় বসেন এবং জানান যে সরকার তাদের দাবী পূরণের জন্য আন্তরিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এ ধরণের কর্মসূচী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত করবে এবং অভিভাবক ও সচেতন মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।
মহাপরিচালকের আশ্বাসের পরও আপনার সংগঠনের পক্ষে আপনিসহ অন্যান্য শিক্ষকমন্ডলী তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষাসহ বিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করতে থাকেন এবং ০১/১২/২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু সংখ্যক শিক্ষক কর্মবিরতি পালন করেন, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
সরকারি কর্মচারী হিসেবে এহেন আচরণ সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ২০১৮ এর সুস্পষ্ট লংঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বর্ণিত অবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে বিষয়ে আগামী ০৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে নিম্নস্বাক্ষরকারীর নিকট ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য নির্দেশক্রমে বলা হলো।
পড়ুন- জনতার প্রত্যাশার ক্যানভাসে মতামত নিচ্ছেন মাসুদুজ্জামান


