১৫/০১/২০২৬, ১৮:৩৮ অপরাহ্ণ
21 C
Dhaka
১৫/০১/২০২৬, ১৮:৩৮ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

‎জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিমানার ফাঁদে কুড়িগ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত জরিমানার ফাঁদে কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজের মাস্টার্স শেষ পর্ব ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ১০৪ জন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কলেজে অর্ন্তভুক্ত প্রাণী বিদ্যা বিষয়ের ফিশারিজ শাখার শিক্ষার্থীদের ভর্তি কোড ভুলে জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের সার্ভারে ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজি শাখায় এন্ট্রি করার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সমাধান করলেও অতিরিক্ত জরিমানা চাপিয়েছে ‎কলেজকে। এতে শুধু অর্থনীতিক ক্ষতি নয়,শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম সরকারী ‎কলেজ সুত্রে জানা যায়,কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে মাস্টার্স শেষ পর্বে ১০৪ জন ভর্তি শিক্ষার্থী নির্ধারিত ফি ৩,৮৭৫/- টাকা সোনালী সেবার মাধ্যমে জমা প্রদান করে। পত্র কোড এন্ট্রির ফি’ও এর সাথে অন্তর্ভুক্ত ছিল। শিক্ষার্থীদের পত্র কোড এন্ট্রি করতে গিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ফিশারিজ শাখার পরিবর্তে ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজি শাখার বিভিন্ন পত্রের কোড এন্ট্রি দেয়।পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে সমাধানের জন্য লিখিতভাবে জানাতে বলে এবং সে অনুযায়ী কলেজ কর্তৃপক্ষ স্মারক নং-কু.স.ক/আ/২৫-৭১৮/২; তারিখ: ২৬.১০.২০২৫ ইং তারিখের একটি পত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরন করে। উক্ত পত্রের আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০.১১.২০২৫ ইং তারিখ সার্ভার খুলে দিলে ফিশারিজ শাখার বিভিন্ন পত্রের সঠিক কোড যথাযথভাবে এন্ট্রি দিয়ে ডাউনলোড করে হার্ড কপি সংরক্ষণ করে।এটির সমাধান হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায় এন্ট্রি নিয়ে আর কোন সমস্যা নেই।

‎ ঠিক দুদিন পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজকে নতুন করে একটি পত্রের মাধ্যমে (যার স্মারক নং-জাতী:বি:/রেজি:/একা:/১৬(৬৯২)/৫৪৮২; তারিখ: ২২.১২.২০২৫) জানিয়েছে পুন: পত্র কোড এন্ট্রির জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ৬০০ টাকা হারে এবং জরিমানা ৫,০০০/- টাকা সহ ১০৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য মোট ৬৭,৪০০/- (সাতষট্রি হাজার চারশত) টাকা জমা প্রদান করার নির্দেশ প্রদান করে।অতিরিক্ত জরিমানার টাকা জমা দিতে না পারায় কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ডাউনলোড করতে পারে নি।ফলে জরিমানান ফাঁদে পরে কলেজের ১০৪ জন শিক্ষার্থী।

‎ জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপ রেজিস্টারের বরাত দিয়ে কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক  রেজাউল করিম জানান,জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধীনে ২৭ টি কলেজের মধ্যে কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজের নাম অন্তর্ভূক্ত আছে।তবে কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজের পেক্ষাপট ছিল ভিন্ন।সেটিরও সমাধান করে কলেজের শিক্ষার্থীদের পত্র কোড এন্ট্রি ও কপিও ডাউনলোড করা হয়েছে।এখানে নতুন করে পরিপত্র দিয়ে অতিরিক্ত জরিমানার ফাঁদ মোটেই সমুচিন নয়।

‎আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি পরিপত্রে উল্লেখ করেছে যে, জরিমানার টাকা কোন অবস্থাতেই শিক্ষার্থীর নিকট হতে আদায় করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট কলেজকেই বহন করতে হবে।এটি কোন ধরনের ফাঁদ?

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ কোনভাবেই জরিমানার আওতায় পড়ে না। অন্য কলেজের সাথে ভুল বশত: কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তার মাশুল গুণতে হচ্ছে কলেজ কে।

‎কলেজের শিক্ষার্থী মো: শফি আলম জানায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় আমাদের ওপর জরিমানা চাপায়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জরিমানা ও অতিরিক্ত ফি এর চাপে পিষ্ট। ইনকোর্স পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ১০০/ টাকা আদায় করে। বিলম্বের ফরম পূরণের জন্য ৬,০০০/- জরিমানা, কেউ কন্ডিশনাল প্রমোটেড হলে তার জন্য ১,৫০০/- টাকা অতিরিক্ত ফি, বিষয় পুন: মুল্যায়নের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রতি পত্রে ১,২০০/- টাকা ফি, ভর্তি বাতিল করে পুনরায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গেলে বাতিল বাবদ ৭০০-/ টাকা এবং পুন:বহাল করতে গেলে আবার ১,০০০/- টাকা প্রদান করতে হয়।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত দায় চাপায়।ফলে আমাদের মতো গরীব শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃষ্কর হয়ে যায়।

‎কলেজ শিক্ষার্থী মাহমুদা খাতুন বলেন দেশের আর কোন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এত টাকা ফি ধরা হয় বলে আমাদের জানা নেই। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যাগরিষ্ট সন্তানরা মেধা থাকার পরেও আর্থিক অনটনের কারনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি কিন্তু এখানকার ফি ও প্রতিটি কাজে জরিমানার পরিমাণ এত বেশি যে আমাদের পক্ষে পড়াশোনার বাড়তি ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়েছে।

‎কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মির্জা নাসির উদ্দিন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যত টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে তা সবই শিক্ষার্থীদের টাকা। সেক্ষেত্রে তাঁদের নোটিশে যাই বলা হোক না কেন তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিক্ষার্থীদেরকেই বহন করতে হবে। পত্র কোড এন্ট্রির বিষয়ে দায়িত্বে অবহেলাজনিত কোন কিছু ঘটে নাই । বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসারে কাজও করেছে। এক্ষেত্রে কলেজকে কিংবা শিক্ষার্থীদের উপর জরিমানার দায় চাপানোর বিষয়টি একেবারেই অপ্রত্যাশিত।  

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: নাজমুলকে অব্যাহতি: খেলায় না ফিরলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিত করবে বিসিবি

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন