পূর্বাচলে বাণিজ্যের মহোৎসব পর্দা উঠছে ৩০তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যুতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার এ আসর শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটায় পূর্বাচলের ৪ নং সেক্টরে বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) ভবনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর উদ্বোধনের করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য,বস্ত্র ও পাট, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
এর আগে ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনের তারিখ থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করে ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জানুয়ারি করা হয়।
উদ্বোধনকালে বিশেষ অতিথিএফবিসিসিআই প্রশাসক আব্দুর রহিম খান বলেন, ইপিবি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানাই। এসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবদান রয়েছে। মাত্র ২১ দেশে বাণিজ্যিক সংযোগ থেকে আরও দেশ যুক্ত করা প্রয়োজন। নিজ দেশের ব্যবসায়ীদের বন্দরগুলোতে সক্রিয় রাখতে হবে। নীতি সহায়ক পরিবেশে নিরাপদ বিনিয়োগে রপ্তানি খাত সম্প্রসারণ করতে সরকারকে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ায় মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের কারনে ২ দিন পিছিয়ে ৩ তারিখে উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশীয় পন্যের পরিচিত, বিনোদন মেলা ক্রেতা বিক্রেতার মিলন মেলায় পরিণত হবে বাণিজ্য মেলা। বিশ্ব বাজারে অবস্থান নিতে গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো সহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবি যৌথভাবে কাজ করছে। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় রপ্তানিত বৃদ্ধিতে সচেষ্ট থাকবে মেলা। নতুন ও মানসম্পন্ন পন্যের বিপুল সমাহার ঘটানোর ব্যবস্থা করা হবে।
বিশেষ অতিথি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচীব মাহবুবুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ৩০ তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ১৯৯৪ সাল থেকে যথারীতি বছরের প্রথম দিন থেকেই বসে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলের ৪ নং সেক্টরের বাংলাদেশ- চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) স্থায়ী ভেন্যুতে মেলার আয়োজন শুরু হয়। পূর্বাচলে এবার পঞ্চম বারের মতো মেলার এ আসর হচ্ছে। রপ্তানি বাণিজ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি আমরা। আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় কাজ করছি। তবে ৭ টা বা ১৩ দেশেই আন্তর্জাতিক হয় না। তাই প্রস্তাব ছিলো ঢাকা বাণিজ্য মেলা করার। আগামীতে রপ্তানি আদেশ সাড়ে ৬৩ বিলিয়ন টার্গেট করা হচ্ছে। গত বছরের দেশের পরিস্থিতির কারনে এখন কম আছে।
সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্য,বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এবারের ৩০তম আসর উদ্বোধনকালে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও শরীফ ওসমান হাদীকে স্মরন করছি। বাংলাদেশকে বিশ্ব বাণিজ্যের বাজারে সংযুক্ত করতে বাণিজ্য মেলার ভূমিকা রয়েছে। উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পন্যের মান যাচাই, আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান করে নেয়া পাশাপাশি পারস্পরিক বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ কাজ করছে। এবার বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ মেলায় অংশ নিচ্ছে। দেশের পণ্য প্রদর্শনীর সব থেকে বড় আয়োজন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি প্রতিবছর ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের পণ্য শোভা পায় এ মেলায়। এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
মেলা সূত্র জানা যায়, মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে।
এদিকে মেলার উদ্বোধনকালে পবিত্র কুরআন তেলোয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অতিথি ও দর্শনার্থীরা।


