আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলা পুলিশের ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসনের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা-৬ আসনের মোট ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২৯টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে, যা মোট কেন্দ্রের প্রায় ৮৩ শতাংশ। খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ ঝুঁকির হার।
গত অক্টোবর মাসে খুলনা জেলা ও মহানগর পুলিশ পৃথকভাবে জেলার ছয়টি আসনের ৮৪০টি ভোটকেন্দ্র নিয়ে ঝুঁঁকি পর্যালোচনা করে। ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পুরো জেলায় ৫৬৬টি ভোটকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ বা অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত যার হার ৬৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে রয়েছে খুলনা মহানগরীর ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং আড়ংঘাটা ও যোগীপোলের একাংশ নিয়ে গঠিত খুলনা-৩ আসন। এই আসনের ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়েছে, যা প্রায় ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আনিসুজ্জামান জানান, ভোটকেন্দ্রের ঝুঁকি নির্ধারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা, দুর্গমতা, অতীতের সহিংসতার ইতিহাস, আশপাশে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবস্থান এবং অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত পালানোর সুযোগ এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কয়েক মাস আগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে এ তালিকা প্রস্তুত করেন।
পুলিশের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, খুলনা-১ আসনের ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৬টি, খুলনা-২ আসনের ১৫৭টির মধ্যে ১০৫টি, খুলনা-৩ আসনের ১৫৫টির মধ্যে ৭৭টি, খুলনা-৪ আসনের ১৪৪টির মধ্যে ৯৫টি এবং খুলনা-৫ আসনের ১৫০টির মধ্যে ৮৩টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
খুলনা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, “এখন পর্যন্ত একটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ছাড়া বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রচার শুরু হলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। নিরাপত্তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।”
খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নগরী থেকে দূরে এবং অনেক ভোটকেন্দ্র দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। এ কারণেই এসব কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি জানান, এসব এলাকায় পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি বিজিবি, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী এবং পৌর এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, কেন্দ্রলোতে ক্যামেরা স্থাপন এবং পুলিশের শরীরে বডি ক্যামেরা সংযোজন এসব উদ্যোগ এরই মধ্যে বাস্তবায়নের পথে।
তিনি আরও জানান, প্রায় ৯৫ শতাংশ পুলিশ সদস্যের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। বডি ক্যামেরার ট্রায়াল চলছে এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সভাও একাধিকবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
পড়ুন- ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান উদ্বোধন এডিসি জেনারেলের
দেখুন- গু/ম-খু/নে/র শিকার পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে বিএনপি: রিজভী


