28.5 C
Dhaka
০২/০৩/২০২৬, ১৮:৪৮ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

জাবিতে ছাত্রদলের কমিটিতে পদ পেলেন ছাত্রলীগকর্মী ও নারী নিপীড়ক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্ধিত আহ্বায়ক কমিটি ও ১৭টি হলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঘোষিত কমিটিতে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী, মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও ভ্রূণ অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করায় ক্যাম্পাসে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুটি পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এবং জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দীন মোহাম্মদ বাবর ও সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক কমিটির নাম ঘোষণা করেন।

ঘোষিত দুই কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কমিটিতে পদ পেয়েছেন ২৩ জন ছাত্রলীগ কর্মী, মাদকসেবী ছয়জন, ভ্রূণহত্তার অভিযোগে অভিযুক্ত একজন, ছিনতাইকারী একজন, র‍্যাগিংয়ে অভিযুক্ত ৩ জন শিক্ষার্থী । বর্ধিত কমিটি এবং হল কমিটির পদধারীদের মধ্যে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন, যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পদ পাওয়া ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাকুর বাপ্পী। সদস্য হিসেবে পদ পাওয়া ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক সোহাগ, ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আল আমিন, সাবরিনা সুলতানা সুরভী। ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইফ বিন মাহবুব, কাজী মৌসুমি আফরোজ, শাহাদাত হোসেন আকুল, শাবাব সবুজ অর্নব, ফিরোজ আহমেদ রিমন, সোহাগ আহমেদ, ইমন মোল্লা । ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাশেদ ইসলাম, শিপন হোসেন, সতীর্থ বিশ্বাস বাধন, ইমরান নাজিজ, মো. হাসান মাহমুদ, আব্দুল্লাহ আলিফ, খাইরুল ইসলাম নাহিদ, মো. রাকিব মাওলা, রাশেদ ইসলাম, মিজানুর রহমান ফায়েজ। ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী নিয়ামুল মেরাজ মাহিন।

এদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক শাকুর বাপ্পি বিশ্ববিদ্যালয়ের কামাল উদ্দিন হলের ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক সোহাগের নামে চোরাই বাইক বিক্রি, নিরাপত্তা কর্মীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ১০ নং হলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন মোল্লা ছাত্রলীগ নেতা জোবায়েদ আশিকের অনুসারী ছিলেন। সদস্য আল আমিন ১০ নং নং হল ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতি করতেন এবং তিনি ছাত্রলীগ সেক্রেটারী হাবিবুর রহমানের অনুসারি ছিল। ফজিলাতুন্নেসা হলের সেক্রেটারী সাবরিনা সুলতানা সুরভী শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আখতারুজ্জমান সোহেলের অনুসারী ছিলেন। ১০ নং হলের সভাপতি সাইফ বিন মাহবুব ছাত্রলীগ নেতা লিটনের অনুসারী ছিল। রোকেয়া হলের সভাপতি কাজী মৌসুমি আফরোজ পাঁচ আগষ্টের পূর্বে রোকেয়া হলের ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্ম ছিলেন। সদস্য শাহাদাত হোসেন আকুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলের ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সদস্য শাবাব সবুজ অর্ণব ২১ নং হলের ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতি করতেন এবং হাবিবুর রহমান লিটনের অনুসারী ছিলেন। শহীদ রফিক জব্বার হলের সভাপতি জাহিদ খান ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী শিপন হোসেন ও সতীর্থ বিশ্বাস বাধন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং মাদক সেবনের সম্পৃক্ততায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তাদের এক বছরের জন্য বহিষ্কার করেছিল। সদস্য ইমরান নাজিজ ২১ নং হল ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং বহিরাগত চার স্কুলছাত্রকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ছয় মাসের জন্য বহিস্কার করেছিল। তাজউদ্দিন আহমেদ হলের সেক্রেটারী মো. হাসান মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ নং হলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যু্ক্ত ছিলেন। তিনি সেক্রেটারী লিটনের অনুসারী ছিলেন। শহীদ সালাম বরকত হলের সেক্রেটারী আব্দুল্লাহ আলিফ হলে ছাত্রলীগের ব্লকে থাকতেন। কামাল উদ্দিন হলের সিনিয়র সহ সভাপতি খাইরুল ইসলাম নাহিদ ২১ নং হল ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং হল ছাত্রলীগের ব্লকে থাকতেন । কাজী নজরুল হলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাকিব মাওলা আল বেরুনী হলে ছাত্রলীগ করতেন। সদস্য রাশেদ ইসলাম ভাসানী হলের ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। মিজানুর রহমান ফায়েজের নামে বিশ্ববিদ্যালয়েল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্তদের পূনর্বাসনের অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে কমিটিতে পদ পেয়েছেন ভ্রূণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত সৈয়দ শাহ শাফায়েত ঋদ্ধ। তিনি ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন ও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স বিভাগে প্রফেশনাল মাস্টার্সে অধ্যয়নরত আছেন। ঋদ্ধর বিরুদ্ধে এবছরের ৯মে জাবির যৌন নিপীড়ন সেলে এক নারী শিক্ষার্থী বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগ করে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়াও কমিটিতে পদ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটের ৫২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভজিৎ বিশ্বাস আব্দুস সায়েম, আশরাফুল ইসলাম শামিম। এদের মধ্যে শুভজিৎ বিশ্বাসকে শহীদ রফিক জব্বার হলে জুনিয়রকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তাকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করে এবং কিছুদিন আগে ঢাকার একটি মন্দিরে নাশকতার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ছাড়া পেয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। এছাড়া আব্দুস সায়েম ও আশরাফুল ইসলাম শামিমকে র‍্যাগিংয়ের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সতর্ক করে এবং অর্থদন্ড দেয়।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভগের শিক্ষার্থী সাদিক ইয়াসির গত ৪ আগষ্ট কাজী নজরুল ইসলাম হলে মাদক সেবনকালে আটক হয়। সদস্য ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. জেরিন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকসেবনকালে আটক হন। এছাড়া শহীদ রফিক-জব্বার হলের সিনিয়র সহ সভাপতি আবেশ আল মুবিন নাফির নামে মাদক গ্রহনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ড্রপআউট শিক্ষার্থী ।

এবিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, আমরা দীর্ঘদিন পর হল কমিটি দিয়েছি। এতে আমাদের কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। যাদের নামে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে। যদি কাউকে দোষী পাওয়া যায় তখন বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: জাবির নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন