জামালপুরে শহর রক্ষা বাঁধের উপর পলিথিনের ছাপড়ি ঘরে ছাগল সঙ্গে নিয়ে ঘুমায় বৃদ্ধ সাইদুর এবং তার স্ত্রী।
নেই কোন প্রতিবেশী, নেই কোন স্বজন। ইফতার এবং সেহরির সময় কেউ খুঁজ নেয় না। বছরের পর বছর এভাবেই শহর রক্ষা বাঁধে পলিথিন দিয়ে ঘর বানিয়ে বসবাস করে আসছে সাইদুর। স্ত্রী অসুস্থ, অর্থাভাবে হচ্ছে না চিকিৎসা।
রমজান আসলে সবাই যখন সেহরি বা ইফতারে ভালো কিছু পায়, তখন এই বৃদ্ধ দম্পতি সৃষ্টিকর্তার সাহায্যের আশায় বসে থাকে।
কেউ দিলে ভালো কিছু খেতে পারেন, না দিলে যা থাকে তাই খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে।
বৃদ্ধ সাইদুর জামালপুর শহরের চালাপাড়ায় শহর রক্ষা বাঁধে দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই বসবাস করছেন।
কোন একদিন নদীর ভাঙনে বাড়ি-ঘর হারিয়ে আশ্রয় নেয় চালাপাড়ায়, বাঁধ তৈরি হলে সেখানে পলিথিন দিয়ে ঘর বানিয়ে বসবাস করতে থাকে।
প্রতিবেশীরা বলেন, সাইদুর ভালো মানুষ, সারাদিন ছাগল দুটোকে ঘাস খাওয়ায়। তেমন কোন শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করতে পারে না।
কেউ কিছু দিলে ভালোভাবে খেতে পারে, নাহলে কষ্টেই দিন চলে।
বৃদ্ধ সাইদুর জানান, ১৫ বছর ধরে এভাবেই বসবাস করছেন তিনি। একটা মেয়ে থাকলেও থাকার জায়গা নেই বলে আসতে পারে না।
অনেকদিন পরপর দেখতে আসে বাবা মাকে।
বৃদ্ধা জাহানারা বলেন, একজন কিছু ভাত দিয়েছিল সেহরির সময় কিছু খেয়ে বাকিটা পানি দিয়ে রেখেছিল।
ইফতারের সময় সে ওই পান্তাভাত খেয়েছে।
এই শহরে দিন আসে, দিন যায়, রাত আসে রাত যায় কিন্তু এসব ছিন্নমূল মানুষের খোঁজ ক’জনই বা নেয়! দেয়ালঘেরা বাড়িতে পোলাও মাংস খেয়ে কত মানুষ ঘুমায়, সেহরি আর ইফতারে বাহারী মজাদার খাবার খায় কিন্তু ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না এসব মানুষের। কারো যেন সময় হয়না এসব গরিবের পাশে দাঁড়াতে!
পড়ুনঃশিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ও বয়স্করা ট্রেন ও মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ছাড় পাবে
ইমি/


