পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) কেন্দ্রীয় সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা বলেছেন, ‘পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা নারীদের অগ্রযাত্রাকে সীমিত করে রাখে। পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম নারীরা প্রায়ই শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন নিষ্পেষনের শিকার হয়ে থাকে। বর্তমানে অধিকাংশ ছাত্রী উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছেন, উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি লাভ করছেন। কিন্তু সমাজে নারীদের অবস্থান সম্পর্কে তাদের যথাযথ অনুধাবন দেখা যায় না। বরং অনেকাংশকে আত্মমুখিতায় জর্জরিত চিন্তার প্রতিফলন দেখতে পায়।’
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাঙামাটি শহরের আশিকা কনভেনশন হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির ১৩তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের সম্মেলনের স্লোগান “সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে ইস্পাত দৃঢ় জুম্ম জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি, জুম্ম জাতির অধিকারের সনদ পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলন জোরদার করি”।
সম্মেলনে সন্তু লারমা আরও বলেন, ‘জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে বৃহত্তর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে তরুণ ছাত্র-যুব সমাজ, নারী সমাজ তথা সকলকে অধিকতরভাবে সামিল হতে হবে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নানা ধরণের সুবিধাবাদীতা, পশ্চাৎপদ চিন্তা ঝেঁকে বসেছে। সেসব কিছুকে পেছনে ফেলে বৃহত্তর আন্দোলনকে সুসংগঠিত হতে হবে। জুম্ম নারীদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সমাজের আমূল পরিবর্তন সাধন করতে হবে এবং নারী সমাজকে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির সদস্যদেরকে জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে।আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আদায়ে তরুণদের বেশী এগিয়ে আসতে হবে। কমিটিতে অর্ধেকাংশ তরুণ অংশগ্রহণ করেছে যা আমাদের জন্য অবশ্যই আশাব্যঞ্জক।’
সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক শ্যামা চাকমার সভাপতিত্বে ও সদস্য আশিকা চাকমার সঞ্চালনায় এতে উদ্বোধক ছিলেন মহিলা সমিতির প্রাক্তন সভাপতি মাধবীলতা চাকমা। অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, জনসংহতি সমিতির রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি গঙ্গা মানিক চাকমা।
এসময় ঊষাতন তালুকদার বলেন, ‘জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন, নারীদের নিরাপত্তা বিপন্ন। নারীরা সমাজের অর্ধেক অংশ, এই অর্ধেক অংশকে পেছনে রেখে সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না। জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নারী সমাজের ভূমিকা রাখতে হবে, না হলে আন্দোলন সফল হবে না। আমরা কেন লড়াই করছি, কী লক্ষ্যে লড়াই করছি তা গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে এবং সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে হবে। বিজাতীয় শাসন শোষনের অবসানকল্পে নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে সামিল হতে হবে। নারীদের সমাজে সমমর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় নারী সমাজকে সংগঠিত হতে হবে।’
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মনি চাকমাকে সভাপতি, আশিকা চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক, সুবিনা চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির নির্বাচিত হয়। নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার।
পড়ুন : রাঙামাটিতে টাইফয়েড টিকাদানবিষয়ক ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত


