বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। তাই ৩০ জুনের মধ্যে সব ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম একই প্ল্যাটফরমে কাজ করার সময় বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বুধবার (১ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
তিনি আরও জানান, এ সময় আর বাড়ানো হবে না। ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ‘বাংলা কিউআর’ কোড পেমেন্ট সিস্টেম চালু করতে ব্যর্থ হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত একটি সর্বজনীন ও আন্তঃলেনদেনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করে যেকোনো ব্যাংক অ্যাপ বা এমএফএস যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট এর মাধ্যমে নিরাপদে ও ক্যাশলেস লেনদেন করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানান, ক্যাশলেস করার লক্ষে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থায়।
যেকোন ব্যাংকে সেভিংস অ্যাকাউন্ট, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, এসএনডি অ্যাকাউন্ট যেকোনো একটি হিসাব থাকলেই আপনি বাংলা কিউআর কোড নিতে পারবেন।
ব্যক্তির নামে ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং ব্যক্তির একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে।
এবার আপনি বাংলা কিউআর কোড পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অফিসার অথবা ম্যানেজারের কাছে জমা দিবেন। যিনি আপনার আবেদন ফরমের বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করে শাখা কর্তৃপক্ষ কার্ড ডিভিশনে পাঠিয়ে দিবেন।
৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে আপনার কিউআর কোড তৈরি হবে এবং আপনাকে এসএমএস বা মেইলে জানানো হবে।
ব্যাংকে হলে শাখার সিএমএস সফটওয়্যারে আপনার কিউআর কোডটি আপলোড করা হবে এবং শাখায় গেলে ডাউনলোড করে আপনাকে প্রদান করা হবে।
মাইক্রো মার্চেন্ট অর্থাৎ যাদের মাসিক লেনদেনের সীমা যদি ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তির এন আই কার্ড এর ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
রেগুলার মার্চেন্ট অর্থাৎ যাদের মাসিক লেনদেনের পরিমাণ যদি ১০ লক্ষ টাকার উপরে তাদের ক্ষেত্রে এন আই ডি কার্ড এর ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবির সাথে টিন সার্টিফিকেট এবং টিন রিটার্ন স্লিপের প্রয়োজন হবে।
এর আগে গত ২৪ নভেম্বর বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারের মাধ্যমে পেমেন্ট করার পর মার্চেন্টের অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিক অর্থ জমার নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট। এখন পর্যন্ত এই পদ্ধতিতে পেমেন্ট হলে একদিন পর মার্চেন্টের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়।
পড়ুন : এক মাসেই এলো রেকর্ড পরিমাণ পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স


