০৯/০২/২০২৬, ২৩:৩৫ অপরাহ্ণ
22 C
Dhaka
০৯/০২/২০২৬, ২৩:৩৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

জেন-জি প্রভাবিত বিশ্বের প্রথম নির্বাচন হচ্ছে বাংলাদেশে : রয়টার্স

শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায়, তখন নির্বাচনের সময়ে বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলোকে রাজপথে খুব কমই দেখা গেছে। হয় তারা নির্বাচন বর্জন করেছিল, নয়তো বিরোধী পক্ষের জ্যেষ্ঠ নেতারা গ্রেপ্তার হওয়ায় কোণঠাসা হয়ে ছিল। এখন আগামী বৃহস্পতিবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতে অংশ নেওয়া তরুণদের অনেকেই বলছেন, ২০০৮ সালের পর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ওই সময় থেকেই শেখ হাসিনা তাঁর ১৫ বছরের শাসন শুরু করেছিলেন।

ধারণা করা হচ্ছে, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয়ী হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোট শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়বে বলেও মনে করছেন অনেকেই। এ ছাড়া ৩০ বছরের কম বয়সী জেন–জি নেতৃত্বাধীন নতুন একটি রাজনৈতিক দলও (জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি) হাসিনাবিরোধী রাজপথের জমায়েতকে নির্বাচনী ভিত্তি হিসেবে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হওয়ার পর জামায়াতের সঙ্গে জোটে গেছে।

এবারের নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দলের প্রধান তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেছেন, ‘সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পাওয়ার’ বিষয়ে তাঁর দল আত্মবিশ্বাসী।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, শেখ হাসিনার পতনের জেরে মাসের পর মাস অচলাবস্থা দেখা গেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশটির তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন শিল্প বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এসব কারণে প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটির জন্য ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এই নির্বাচনের ফলাফল দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে দুই আঞ্চলিক প্রভাবশালী রাষ্ট্র চীন ও ভারতের ভূমিকার ওপরও প্রভাব ফেলবে।

‘জনমত জরিপগুলোতে বিএনপি স্পষ্টতই এগিয়ে আছে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি,’ বলেন ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী।
এই বিশ্লেষকের মতে, নির্বাচনের ফলাফলের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। এর মধ্যে জেন–জি ভোটারদের ভোট রয়েছে। মোট ভোটারের প্রায় এক–চতুর্থাংশ জেন–জি। নির্বাচনের ফলাফলে এসব ভোটারের পছন্দ–অপছন্দ যথেষ্ট গুরুত্ব পাবে।

বাংলাদেশজুড়ে এখন নির্বাচনী প্রচারের আমেজ। সাদা–কালো পোস্টার আর ব্যানার ঝুলছে। সড়কের পাশের দেয়ালে এবং খুঁটি আর গাছগুলো থেকে ঝুলছে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ ও জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকযুক্ত পোস্টার–ব্যানার। অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারসামগ্রীও দেখা যাচ্ছে। সড়কের আশপাশে নির্বাচনী প্রচার দপ্তর খুলেছেন প্রার্থীরা। হচ্ছে মিছিল–সমাবেশ, বাজছে ভোটের প্রচারের গান।

অতীতের নির্বাচনগুলোয় এ চিত্রটা দেখা যায়নি। তখন সবখানে আওয়ামী লীগের প্রতীক ‘নৌকার’ একক আধিপত্য ছিল।

জনমত জরিপগুলো দেখাচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে জয়ী না হলেও দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো ফলাফল করতে পারে। এই দল ১৯৭১ সালে ‘ভারতের সমর্থনে’ পাকিস্তানের কাছ থেকে পাওয়া দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং একসময় নিষিদ্ধ ছিল।

আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের বিষয়ে চীন আর ভারতের ভূমিকা কেমন হবে, সেটাও এবারের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঠিক করে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। শেখ হাসিনাকে ভারতপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা এবং তাঁর পালিয়ে দিল্লিতে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে বেইজিং বাংলাদেশে নিজেদের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করেছে।

যদিও বাংলাদেশে নয়াদিল্লির প্রভাব ক্রমেই ক্ষীণ হতে শুরু করেছে, তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, ভারতের সঙ্গে জামায়াতের তুলনায় বিএনপির সম্পর্কই বেশি লাগসই হতে পারে।

এর বিপরীতে বাংলাদেশে জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার এলে, সেটি বরং পাকিস্তানের আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। মুসলিম–অধ্যুষিত পাকিস্তান হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। জামায়াতের জেন–জি মিত্ররা বলেছেন, তাঁদের উদ্বেগের বড় একটি বিষয় বাংলাদেশে ‘নয়াদিল্লির আধিপত্য’। জেন–জি নেতারা সম্প্রতি চীনা কূটনীতিকদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী বলেছে, দলটি নির্দিষ্ট কোনো দেশের দিকে ঝুঁকবে না; বরং দলটির পক্ষ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের নিরিখে সমাজ গড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন